শিরোনাম

ঢাকা, ১৪ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা মঙ্গলবার জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণ পুরুষ ও কিশোররা যৌন হয়রানিমূলক প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনায় ‘বড় ধরনের ঘাটতি’ রয়েছে বলেও সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে যৌন হয়রানিমূলক বা সেক্সটর্শন সংক্রান্ত ২ হাজার ২০০টির বেশি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই প্রতারণায় অপরাধীরা প্রথমে ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ ছবি শেয়ার করতে প্রলুব্ধ করে। পরে অর্থ দাবি করে এবং ছবি পরিবার ও বন্ধুদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সবচেয়ে বেশি আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী পুরুষরা। এই বয়সী তরুণদের কাছ থেকে ৮০৩টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।
১৫ বছরের কম বয়সী শিশুরাও এ ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছে। তাদের মধ্যে ছেলেদের কাছ থেকে ১৮৬টি এবং মেয়েদের কাছ থেকে ৫৮টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌন হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হলো ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে টিকটককে এমন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেশি চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ১৬ বছর বয়সী ‘স্যাম’-এর অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে স্ক্রল করার সময় সে ‘জেসিকা’ নামের এক প্রতারকের সঙ্গে পরিচিত হয়।
পরে স্যামকে ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি নগ্ন ছবি পাঠাতে বলা হয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে ২০০ ডলার দিতে বলা হয়। এমনকি ডলার না দিলে ছবিটি তার অনলাইন পরিচিত সবার কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং তাকে অভিভাবকদের কাছ থেকে ডলার চুরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বলেন, প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবস্থাপনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি’ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অভিযোগের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ‘অত্যন্ত জরুরি’।
তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের প্রধান লক্ষ্য প্রায়ই দ্রুত অর্থ আদায় করা। তারা ভুক্তভোগীদের অর্থ দিতে বাধ্য করতে চাপ সৃষ্টি করে। এ ধরনের চাঁদাবাজি ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ, আতঙ্ক, মানসিক কষ্ট এবং আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা এসব প্ল্যাটফর্মকে প্রমাণ দিয়েছি যে, কীভাবে অপরাধীরা তাদের সেবা ব্যবহার করে ভয়াবহ ক্ষতি করছে। অপব্যবহার বন্ধের উপায় সম্পর্কেও স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি। কিন্তু প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও আমরা এখনো পর্যাপ্ত পদক্ষেপ দেখতে পাইনি।’
গ্রান্ট বলেন, বিভিন্ন যৌন হয়রানি প্রতারণায় একই ধরনের কৌশল, বার্তা ও ছবি বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই এসব শনাক্ত করার দায়িত্ব প্ল্যাটফর্মগুলোর নেওয়া উচিত।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, যৌন হয়রানিমূলক প্রতারণার মাধ্যমে চাঁদাবাজি শনাক্ত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভাষা বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত। তবে ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানের সেবায় এনক্রিপশন ব্যবস্থার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তা বাধাগ্রস্ত হয়।
গত মার্চ মাসে মেটা জানিয়েছে যে, তারা ইনস্টাগ্রামের ব্যক্তিগত বার্তা ব্যবস্থা থেকে এনক্রিপশন তুলে দেবে।