বাসস
  ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৪:৪০

গরমে অসুস্থ পাখিদের বাঁচাতে কাজ করছেন পাকিস্তানের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মীরা

ঢাকা, ১৪ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : দুই হাতে একটি এশীয় কোকিল ধরে তার ডানা আলতোভাবে মেলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছিলেন বন্যপ্রাণী কর্মকর্তা জহির আহমেদ। পানিশূন্যতা ও তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত পাখিদের সুস্থ করে তুলতে পাকিস্তানের রাজধানীতে এভাবেই কাজ করছেন তিনি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি পাকিস্তানে ২০২৫ সাল ছিল ১৯৬০ সালের পর দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর। চলতি গ্রীষ্মে ইসলামাবাদে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে।

ইসলামাবাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ইসলামাবাদ ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের পরিচালক সাখাওয়াত আলী বলেন, অতীতে ঘুড়ি ওড়ানোর সুতা পাখির ডানা ক্ষতিগ্রস্ত করত।

ইসলামাবাদের মারগাল্লা ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের তত্ত্বাবধানকারী  বলেন, ‘কিন্তু গত এক-দুই বছর ধরে আমরা যেসব পাখি পাচ্ছি, তাদের বেশিরভাগই পানিশূন্যতা ও তাপজনিত চাপের শিকার।’

মারগাল্লা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বন্যপ্রাণী উদ্ধারকেন্দ্রটি একসময় কুখ্যাত ইসলামাবাদ চিড়িয়াখানা ছিল। সেখানে অবহেলিত হাতি এবং অপুষ্টিতে ভোগা সিংহকে খাঁচায় রাখা হতো।

২০২০ সালে চিড়িয়াখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আগাছায় ঢেকে যাওয়া সেই প্রাঙ্গণে এখনও বিশাল ডাইনোসরের ভাস্কর্য দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমানে সেখানে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যক্তিমালিকানায় নির্যাতনের শিকার ভালুক ও বানরও রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।

জহির আহমেদ বলেন, গ্রীষ্মকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে পাখির দুর্দশা নিয়ে প্রতিদিন ৩০টি পর্যন্ত ফোন পান তারা।

তিনি বলেন, তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো আক্রান্ত প্রাণীদের চিকিৎসা, খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা।

পাখিগুলোকে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত, কখনও কখনও কয়েক সপ্তাহ ধরে, পৃথক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এরপর সেগুলোকে আবার প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আহমেদ বলেন, দাবানলের ঝুঁকিও পাখিদের জন্য বেড়েছে। অনেক সময় এই আগুন তাদের প্রজনন মৌসুমের সঙ্গে মিলে যায়।

তিনি বলেন, ‘পাখির বাসাও পুড়ে যায়। পাখিরাও কিছুটা পুড়ে যায়। ফলে, তাদের পুরো আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’

পাখিদের পান করা, গোসল করা এবং শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য বাড়ির বাইরে পানিভর্তি পাত্র রাখতে সাখাওয়াত আলী বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকারি সংস্থা ইসলামাবাদ ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্ট বোর্ড খতিয়ে দেখছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পাখিদের প্রজনন মৌসুম ও খাদ্যের উৎস ব্যাহত হচ্ছে কি না। কারণ, এতে তাদের সংখ্যা কমে যেতে পারে।