বাসস
  ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৩:১৩

প্যারিসের কাছে দাবানলে পুড়েছে ১৩০০ হেক্টরের বেশি বনাঞ্চল

ঢাকা, ১৪ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : প্যারিসের দক্ষিণে অবস্থিত একটি বনে ছড়িয়ে পড়া দুটি দাবানলে ১ হাজার ৩০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে।

এ ঘটনায় অগ্নিসংযোগকারী সন্দেহে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার রাজধানী থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত বিস্তীর্ণ ফঁতেনব্লো বনে আগুনের সূত্রপাত হয়। এক সময় এটি ছিল ফরাসি রাজপরিবারের শিকারের এলাকা। বর্তমানে বনজুড়ে রয়েছে শান্ত-নিরিবিলি অনেক গ্রাম।

ফ্রান্সের আরবোন-লা-ফোরে থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

নতুন তাপপ্রবাহে অঞ্চলটি যখন তীব্র গরমে পুড়ছিল, তখন দেশের উত্তরাঞ্চলে বিরল এই দাবানল দ্রুত ইউনেস্কোর জীবমণ্ডল সংরক্ষণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে দীর্ঘ ছুটির ভ্রমণ মৌসুমে রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ জানান, সোমবার দিনভর আকাশে বিমান এবং মাটিতে দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।

সোমবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর  এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, সোমবার বিকেলে আরও একটি দাবানলের সূত্রপাত হয়। এতে প্রায় ১০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে যায়। ফঁতেনব্লো এবং আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া দুই সন্দেহভাজনের একজনের বয়স ১৮ বছর। তার বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আটক করার সময় তার হাতে কালির দাগ ছিল এবং তার কাছে একটি লাইটার পাওয়া যায়।

৩৭ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা ক্লেমঁ বোয়ের জানান, রোববার রাতে বনের ওপর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পাওয়ার পর থেকেই তিনি ও তার পরিবার সতর্ক অবস্থায় ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘অন্য সবার মতো আমরাও প্রস্তুত আছি। যানবাহন প্রস্তুত। একটি ব্যাগও গুছিয়ে রাখা হয়েছে। এখন অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের কিছুই করার নেই।’

দাবানলের ব্যাপকতায় বৃহত্তর প্যারিস অঞ্চলে এই প্রথম চারটি কানাডেয়ার অগ্নিনির্বাপক বিমান মোতায়েন করা হয়। এছাড়া দুটি ড্যাশ বিমান এবং তিনটি পানি নিক্ষেপকারী হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয়।

উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা জ্যাঁ-মার্ক সিকার সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে জানান, মোট ১৮৭ বার আকাশ থেকে পানি ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাত নামার পরও প্রায় ৬০০ দমকলকর্মী মোতায়েন ছিলেন। তারা পালাক্রমে মাটিতে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আগুন এখনও ছড়িয়ে পড়ছে।’ কারণ সোমবার সন্ধ্যায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি "খুব একটা অনুকূলে ছিল না’, যদিও কিছু সময়ের জন্য আগুনের তীব্রতা কমেছিল।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ‘ব্যতিক্রমধর্মী বড় এই দাবানল’ মোকাবিলায় সব ধরণের সক্ষমতা কাজে লাগানো হয়েছে।

নুনেজ বলেন, আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘১ হাজার মিটার এলাকার মধ্যে প্রায় ১০টি স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনটি ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়ে থাকতে পারে।’

তিন মাসেরও কম সময়ে ফ্রান্সে এটি তৃতীয় তাপপ্রবাহ। গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এমন প্রাণঘাতী চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার জন্য বিজ্ঞানীরা মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন।