শিরোনাম

ঢাকা, ১৩ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের ৮৪ বছর বয়সী সিনেটর এবং সাবেক রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল রোববার জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে তার হাসপাতালে থাকার কারণ ছিল অচেতন হয়ে পড়ে যাওয়া এবং পরে তিনি নিউমোনিয়াতেও আক্রান্ত হয়েছিলেন।
কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের এই প্রবীণ সিনেটরের কয়েক সপ্তাহের অনুপস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে সিনেটে অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকা তার দলের জন্যও পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত ১৪ জুন ম্যাককনেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার কার্যালয় থেকে বারবার জানানো হয়েছিল যে তিনি ‘ চিকিৎসা সেবা’ পাচ্ছেন।
রোববার এক বিবৃতিতে ম্যাককনেল স্বীকার করেন, তার অনুপস্থিতি নিয়ে ‘প্রশ্ন’ উঠেছিল।
তিনি বলেন, ‘শৈশবে পোলিও থেকে বেঁচে যাওয়ার কারণে সারা জীবনই আমাকে চলাফেরার সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সমস্যা সহজ হয়নি। গত মাসে আমি পড়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম।’
তিনি জানান, চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে তার কোনো হাড় ভাঙেনি এবং মাথায় আঘাত বা মস্তিষ্কে সমস্যা হয়নি।
ম্যাককনেল বলেন, ‘আমার হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়নি। শরীরে কোনো টিউমার বা রক্তক্ষরণও নেই। তবে আমি কিছু সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েছিলাম এবং আমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।’
তিনি আরও জানান, হাসপাতালে থাকার সময় তিনি ‘নিউমোনিয়ায়’ আক্রান্ত হয়েছিলেন।
তবে কবে তিনি কংগ্রেসে ফিরবেন, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময় জানাননি ম্যাককনেল। জুনের শুরুর পর থেকে তিনি আর কোনো ভোটে অংশ নেননি।
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এখনই সিনেটে ফিরে ভোট দেওয়ার মতো অবস্থায় আমি নেই।’ তিনি জানান, বর্তমানে তাকে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
ম্যাককনেলের বিবৃতির সঙ্গে একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়। ছবিতে তাকে চিকিৎসা শয্যায় বসে রোববারের ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা তার হাতে দেখা যায়। ওই ছবিতে তার স্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পরিবহনমন্ত্রী এলেইন চাও দেখা গেছে।
বছরের পর বছর ধরে ম্যাককনেলের স্বাস্থ্য নিয়ে নজর রয়েছে। ২০২৩ সালে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। গত বছর আরেকবার পড়ে গিয়ে তার কবজিতে আঘাত লাগে এবং চলতি বছরের শুরুতে ফ্লুর মতো উপসর্গ নিয়ে এক সপ্তাহের বেশি হাসপাতালে ছিলেন।
ম্যাককনেল আগামী নির্বাচনে আর প্রার্থী হচ্ছেন না এবং জানুয়ারিতে তার অবসর নেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে তার আগেই যদি তিনি পদত্যাগ করেন, তাহলে কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী বিশেষ নির্বাচন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার সরাসরি কোনো অস্থায়ী উত্তরসূরি নিয়োগ করতে পারবেন না।