শিরোনাম

ঢাকা, ১০ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং দমনে গঠিত নতুন আন্তর্জাতিক ‘গ্যাং’ দমন বাহিনী (জিএসএফ)-এ শ্রীলঙ্কার একটি দল যোগ দিয়েছে বলে জানা গেছে। জাতিসংঘ-সমর্থিত এই বাহিনীর এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন ।
ওই মুখপাত্র বৃহস্পতিবার এএফপিকে বলেন, ‘একটি শ্রীলঙ্কান দল গত রাতে পোর্ট-অ-প্রিন্সে পৌঁছেছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে আমরা সদস্যসংখ্যা প্রকাশ করছি না।’
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মুখপাত্র জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও সদস্য এই বাহিনীতে যোগ দেবেন। ধাপে ধাপে এই বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ জন ইউনিফর্মধারী সদস্য (পুলিশ ও সেনাসদস্য) এবং ৫০ জন বেসামরিক কর্মী’ নিয়ে গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য হলো হাইতির জাতীয় পুলিশকে সহায়তা করা এবং দেশটির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সশস্ত্র গ্যাংগুলোকে দমন করা।
এছাড়া কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দেশে জননিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা এবং নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতেও বাহিনীটি কাজ করবে।
আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর একটি হাইতি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতায় ভুগছে। দেশটির শক্তিশালী সশস্ত্র গ্যাংগুলো হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অপহরণের মতো অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক গত মাসে জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে গ্যাং সহিংসতায় অন্তত ‘২ হাজার ৩০০ জন নিহত এবং ১ হাজার ১০০ জন আহত হয়েছেন। তিনি নতুন এই বাহিনীকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলে উল্লেখ করেন।
নিরাপত্তাহীনতার কারণে হাইতিতে ২০১৬ সালের পর আর কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
জাতিসংঘের ২০২৬ সালের হাইতি মানবিক সহায়তা পরিকল্পনার জন্য ৮৮ কোটি ডলার প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত এর এক-চতুর্থাংশেরও কম অর্থ পাওয়া গেছে। গত জুনে হাইতি সফরের সময় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশ্ব যেভাবে হাইতির দিকে তাকানো বন্ধ করে দিয়েছে, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’