শিরোনাম

ঢাকা, ১০ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ইরানের অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলার জবাবে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হবে বলে শুক্রবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর।
তেহরান থেকে এএফপি জানায়, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এসব অপরাধের জন্য দায়ী অপরাধী জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা আমাদের যোদ্ধাদের পাল্টা হামলা থেকে নিরাপদ থাকবে না।’
গত সপ্তাহে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। গত ১৭ জুন উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল এপ্রিলের যুদ্ধবিরতিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং যুদ্ধের স্থায়ী অবসানে আলোচনার পথ সুগম করা।
বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ব্যাপক হামলা চালিয়ে ৯০টি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার দাবি করে।
তবে ইরান অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটন শুধু সামরিক স্থাপনাই নয়, বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে, যাতে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকে আড়াল করা যায়।
ইরানের দাবি, রাজধানী তেহরান থেকে খামেনির জন্মশহর মাশহাদের মধ্যে সেতু ও রেল যোগাযোগে হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার মাশহাদে খামেনিকে দাফন করা হয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এ পর্যন্ত ১৭ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে ইসরইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ পদক্ষেপ সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।
বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থানস্থল বুশেহরের কাছে একটি সামরিক সদর দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে তারা প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন হলে আমরা আরও বড় শক্তি নিয়ে অভিযান চালাব।’