বাসস
  ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:২৯

ট্রাম্পকে হত্যার ‘নতুন’ ইরানি পরিকল্পনা ফাঁস ইসরাইলের: প্রতিবেদন

ঢাকা, ১০ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): ইসরাইল সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়, ইরানের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য একটি  ‘নতুন ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা’ করেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গণমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

এমন সময় এই প্রতিবেদন সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় যুদ্ধের আশঙ্কা আবারও বাড়ছে। ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ছাড়ার সময় ট্রাম্পের পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমান ব্যবহার নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন তথ্য পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ইসরাইলের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যটি ছিল নতুন এবং এতে একটি  নির্দিষ্ট উপায়ে হত্যাচক্রান্তের উল্লেখ রয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’। পত্রিকাটি জানায়, ইসরাইলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যে ট্রাম্পকে হত্যার একটি ‘নতুন পরিকল্পনার’ কথা বলা হয়েছে।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করে আসছে তেহরান।

এ বিষয়ে এএফপি হোয়াইট হাউসের কাছে মন্তব্য জানতে চাইলে এক কর্মকর্তা ট্রাম্পের বুধবারের বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেন।

ন্যাটো সম্মেলন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে অর্থাৎ আমাকে হত্যা করতে চায়। আমি তাদের তালিকায় আছি। আজ সকালে দেখলাম, তাদের প্রায় সব তালিকাতেই আমার নাম রয়েছে।’

তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় ট্রাম্প নিজের পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে তুরস্ক ত্যাগ করেন। কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন বিমানটি আগে থেকেই যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে পাঠানো হয়। পরে ব্রিটেনে গিয়ে তিনি সেই নতুন বিমানে উঠে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হন।

ট্রাম্পের এই বিমান পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর পর অনেকেই ধারণা করেন, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কারণে নতুন বিমানটি তখনও পুরোপুরি উপযোগী ছিল না। উল্লেখ্য, ইরানের সীমান্তের কাছেই অবস্থিত তুরস্ক।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের অনুরোধেই নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে পরে এক সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে গেলেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, অতীতেও ইরানের পক্ষ থেকে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।