বাসস
  ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৬:৪০

হরমুজ প্রণালীর সংকটের মধ্যেও জার্মানির শিল্প উৎপাদন বেড়েছে

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৃষ্ট আশঙ্কার মধ্যেও ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে মে মাসে শিল্প উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। 

মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জার্মানির পরিসংখ্যান সংস্থা ডেস্টাটিস জানায়, মে মাসে আগের মাসের তুলনায় দেশটির কারখানা উৎপাদন ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। 

অথচ ফ্যাক্টসেটের জরিপে অংশ নেওয়া বিশ্লেষকরা ০ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ডেস্টাটিস জানায়, মোটরগাড়ি শিল্পে উৎপাদন ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে। এছাড়া শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি উৎপাদনও ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।

আইএনজি’র বিশ্লেষক কারস্টেন ব্রজেস্কি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং জ্বালানির দাম ব্যাপক বাড়লেও শিল্প উৎপাদন স্থিতিশীল রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কিছু শিল্প বা প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে বরং লাভবান হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। কারণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী ছিল উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু।  তখন ইরান এই জলপথ অবরোধ করে। একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজও হামলার শিকার হয়। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়ে যায়।

বাণিজ্যিক নৌপরিবহনে হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা নৌ অবরোধ আরোপ করে। 
পরে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় ওয়াশিংটন।

গত মাসে সংঘাতের অবসান এবং এই কৌশলগত নৌপথ পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার পর সমুদ্রপথে চলাচল আবার শুরু হয়।

ডেস্টাটিসের তিন মাসের তুলনামূলক কম ওঠানামাপূর্ণ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শিল্প উৎপাদন বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশ। আর গত বছরের একই মাসের তুলনায় মে মাসে উৎপাদন অপরিবর্তিত ছিল।

২০২২ সালের শেষ দিকে মহামারির সময় জমে থাকা চাহিদা পূরণের পর থেকে জার্মানির অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি প্রায় স্থবির। উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে চীনের ক্রমবর্ধমান তীব্র প্রতিযোগিতাও এর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

ডেস্টাটিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের মাসিক গড়ের তুলনায় চলতি বছরের মে মাসে মোট শিল্প উৎপাদনের পরিমাণ এখনও ৮ শতাংশ কম।