বাসস
  ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৬:০৯

যত দ্রুত সম্ভব কারাকাস বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হবে

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) :  ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ মঙ্গলবার জানান, গত মাসের জোড়া ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি বিকল্প রানওয়ে ব্যবহার করে যত দ্রুত সম্ভব বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য চালু করা হবে।

সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি কারাকাসের উত্তরে লা গুয়াইরায় অবস্থিত। ২৪ জুনের ৭ দশমিক ৩ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল এই এলাকা। ওই ভূমিকম্পে অসংখ্য আবাসিক ভবন ধসে পড়ে এবং প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মানুষ প্রাণ হারায়।

কারাকাস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ল্যাটিন আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোর অন্যতম ভূমিকম্পে হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়েছে। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরায় এখনও হাজারো মানুষ নিখোঁজ। 

স্বজনদের খুঁজে পেতে পরিবারগুলো এখনো ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে বিমানবন্দরটি আংশিকভাবে মানবিক সহায়তা বহনকারী ফ্লাইটের জন্য খোলা রয়েছে।

রড্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে এক বার্তায় বলেন, ‘বিমানবন্দরের সমান্তরাল রানওয়ে ব্যবহার করে, যত দ্রুত সম্ভব বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করতে বিকল্প পরিকল্পনা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সদস্য ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করার কাজে সহায়তা করছেন। পাশাপাশি ত্রাণসামগ্রী ও সরঞ্জাম সরবরাহ সহজ করতে, তারা লা গুয়াইরার ক্ষতিগ্রস্ত বন্দর মেরামতেও কাজ করছেন।

মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জন ব্যারেট সাংবাদিকদের সঙ্গে এক কনফারেন্স কলে বলেন, বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোতে এখনও কিছু কাজ বাকি রয়েছে।’ 

যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান বলেন, মার্কিন সামরিক সদস্যরা এখনও বিমানবন্দরে আকাশপথের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও ভূমিতে কার্গো পরিচালনার কাজে সহায়তা করছেন।

দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য প্রায় ২ হাজার মার্কিন সেনা ভেনেজুয়েলায় মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন হেলিকপ্টার ও বিমান নিয়মিত এই বিমানবন্দরে অবতরণ করছে।

৭ দশমিক ৩ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প দুটি আঘাত হানার প্রায় দুই সপ্তাহ পর আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার অভিযান শেষ করছে। 

এদিকে স্বজনদের লাশ উদ্ধারে পরিবারগুলো এখনও ধ্বংসস্তূপে খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার সরকার মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে জানায়, এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ১৭ হাজার মানুষ।

হাজারো মানুষ এখন গৃহহীন। তারা ধসে পড়া ভবনের বাইরে তাঁবুতে অথবা বাস্তুচ্যুতদের জন্য স্থাপিত অস্থায়ী শিবিরে রাত কাটাচ্ছেন।

ভূমিকম্পের দুই দিন পর জাতিসংঘের এক হিসাবে বলা হয়, প্রায় ৫০ হাজার মানুষ তখনও নিখোঁজ ছিলেন। তবে সরকার এখন পর্যন্ত নিখোঁজের কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

এই দুর্যোগের আগেই অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভুগছিল ভেনেজুয়েলা। এতে দেশটির অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

জাতিসংঘের হিসাবে, এই ভূমিকম্পে ৬৭০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশের সমান। দেশটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী রাষ্ট্র।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ হাজার মানুষের সুরক্ষা, ত্রাণসামগ্রী ও অস্থায়ী আশ্রয় সহায়তা জোরদারে আগামী ছয় মাসের জন্য আনুমানিক ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার প্রয়োজন।