শিরোনাম

ঢাকা, ৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পর, বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের মূল আলোচনায় যোগ দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্মেলনে তাকে সন্তুষ্ট রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন ন্যাটোভুক্ত মিত্র দেশগুলোর নেতারা।
আঙ্কারায় পৌঁছে ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দুজনের মধ্যে ‘চমৎকার বোঝাপড়ার’ কথা উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি তার দীর্ঘদিনের অসন্তোষও স্পষ্ট করেন। আঙ্কারা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘ন্যাটো নিয়ে আমি খুবই হতাশ হয়েছিলাম।’
তার এ মন্তব্যই সম্মেলনের মূল অধিবেশনের সুর নির্ধারণ করে দেয়। বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ০৮১৫টায় শুরু হওয়া ওই অধিবেশনে ন্যাটোর বাকি ৩১ সদস্য দেশের নেতার ট্রাম্পের মুখোমুখি হওয়ার কথা।
৭৭ বছরের এই ট্রান্স-আটলান্টিক জোটের জন্য সম্মেলনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইউরোপে নিজের ভূমিকা কিছুটা কমিয়ে আনায় যুক্তরাষ্ট্র সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য জোর দিচ্ছেন ট্রাম্প।
মূল অধিবেশনের আগের দিন ন্যাটো প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৬ সালে ইউরোপের মূল প্রতিরক্ষা ব্যয় ১১ শতাংশ বেড়েছে। এতে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এক বছর আগে যা ছিল ৫৭১ বিলিয়ন ডলার।
ট্রাম্পের সঙ্গে নতুন কোনো বিরোধ এড়াতে মঙ্গলবার ন্যাটো সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অর্থের নতুন অস্ত্র ক্রয়চুক্তি ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে তারা প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বার্তা দিতে চায়।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, সামরিক বাজেট বাড়িয়ে এবং রাশিয়ার হুমকির মুখে নিজেদের মহাদেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি করে নেওয়ার মাধ্যমে ইউরোপীয় মিত্ররা তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেন ‘সমঝোতা চায়’-
ন্যাটো যখন ট্রাম্পের দৃষ্টি প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির দিকে রাখতে চাইছে, তখন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের স্থবির প্রচেষ্টাও আবার আলোচনায় এসেছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তার বিশ্বাস রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষই যুদ্ধের অবসান চায়। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, দুই পক্ষই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়।’
সম্মেলনের ফাঁকে বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, আলোচনা অচলাবস্থায় থাকায় তুরস্কে যাওয়ার আগে, ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর, তিনি আবারও পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
ইউরোপ ও কানাডা ২০২৬ ও ২০২৭ সালে প্রতি বছর ৭০ বিলিয়ন ইউরো (৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) সামরিক সহায়তা ইউক্রেনকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে যাচ্ছে।
তবে মঙ্গলবার ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ফোরামে জেলেনস্কি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে আরও সহায়তার আহ্বান জানান। প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির কথাও তিনি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আবারও ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদ পাওয়ার দাবি জানান।
ট্রাম্প সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গেও বৈঠক করবেন। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ শেষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিরিয়ার ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর একদিন আগে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁকে রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাগত জানান। তবে রাজধানী দামেস্কে যুগপৎ দুটি বোমা হামলায় ১৮ জন আহত হওয়ার ঘটনায় সেই সফর কিছুটা ম্লান হয়ে যায়।
-‘বন্ধুদের ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়’-
ইরান সংঘাতের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহারে কিছু মিত্র দেশের আরোপ করা বিধিনিষেধ নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তবে তিনি এরদোগানের জন্য সুখবর দেন।
তিনি বলেন, তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি বিবেচনা করবেন এবং দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করবেন।
রাশিয়ার কাছ থেকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ২০১৯ সালে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে তুরস্ককে বাদ দেওয়া হয়। এরপর থেকে কর্মসূচিতে পুনরায় যুক্ত হওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চেষ্টা চালিয়ে আসছে আঙ্কারা। এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে এবং তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রকল্পও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এরদোগানের জাঁকজমকপূর্ণ মার্বেল-পাথরে নির্মিত প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে যাচ্ছি। আমরা বন্ধুদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে চাই না।’
এ সময় তার পাশে বসা এরদোগান বলেন, ট্রাম্প এই বিরোধের অবসান ঘটাবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।