শিরোনাম

ঢাকা, ৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): সুপার টাইফুন বাভির আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে মঙ্গলবার হাজারো মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছোট দ্বীপ রোটা। সোমবার ভোরে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮০ মাইল বেগের বাতাস নিয়ে সুপার টাইফুন বাভি দ্বীপটিতে আঘাত হানে। এতে অসংখ্য গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে। পানি সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী মাসুম ধালি বলেন, ‘অনেক বাড়িঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অসংখ্য বাড়ির ছাদ পুরোপুরি উড়ে গেছে। পুরো দ্বীপে এখন বিদ্যুৎ নেই, পানি সরবরাহ নেই, এমনকি মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ হয়ে পড়েছে।’
ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি এএফপি-কে বলেন, ‘অনেক পানির পাইপলাইন ভেঙে গেছে। অসংখ্য বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গেছে। ফলে পুরো দ্বীপই প্রয়োজনীয় মৌলিক সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’
রোটার মিউনিসিপ্যাল অপারেশনস সেন্টারের মুখপাত্র লু রোসারি মঙ্গলবার সকালে বলেন, ‘এখনও পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়নি।’
মারিয়ানা প্রেসে প্রকাশিত সোমবার রাতের এক ভিডিও বার্তায় রোটার সিনেটর ডোনাল্ড এম. মাংলোনা বলেন, ‘সৌভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত আহত বা নিহত হওয়ার কোনো খবর আমরা পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের জরুরি সেবাকর্মী ও সড়ক বিভাগের কর্মীরা এখনও রাস্তায় কাজ করছেন। তারা উদ্ধারকারী যানবাহন চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার চেষ্টা করছেন, যাতে জরুরি সহায়তার আহ্বানে সাড়া দেওয়া যায়। এখনও আমাদের কাছে চলমান পানি সরবরাহ বা বিদ্যুৎ নেই।’
কর্তৃপক্ষ জানায়, নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের প্রধান দুই দ্বীপ সাইপান ও টিনিয়ানেও বিদ্যুৎ নেই। একই অবস্থা বিরাজ করছে কাছাকাছি অবস্থিত গুয়ামের বিভিন্ন এলাকায়। গুয়াম যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক একটি অঞ্চল, যেখানে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
তবে, ওই দ্বীপগুলোতে গত এপ্রিলে মূল ভূখণ্ড থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার পশ্চিমের এই অঞ্চলে আঘাত হানা আগের সুপার টাইফুন সিঙ্কালুর তুলনায় ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে।