শিরোনাম

ঢাকা, ৬ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থাটির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসের মাঝামাঝি প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে ডিআর কঙ্গোতে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৬১টি নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেশী উগান্ডাতেও আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সেখানে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। দেশটিতে মোট ২০টি নিশ্চিত সংক্রমণের মধ্যে ১৬ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।
ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত ডব্লিউএইচওর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে এ প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার (কেস ফ্যাটালিটি রেট) ৩২ শতাংশ।
এ পর্যন্ত ২৫৪ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। এছাড়া ভাইরাসজনিত রক্তক্ষরণজনিত এ জ্বরে আক্রান্ত সন্দেহে আরও ৩৫৪টি ঘটনার তদন্ত চলছে।
ডিআর কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শুরু হওয়া এ প্রাদুর্ভাব চারটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়লেও সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ইতুরি প্রদেশ।
এ প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বিরল ‘বুন্ডিবুগিও’ প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস, যার বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
এ প্রজাতির ইবোলার সম্ভাব্য দুটি চিকিৎসাপদ্ধতির ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা বৃহস্পতিবার ডিআর কঙ্গোতে শুরু হয়েছে।
পরীক্ষায় এককভাবে এবং সমন্বিতভাবে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি এমবিপি১৩৪ এবং অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভিরের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
ইবোলায় নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০ অতিক্রম করার এ ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন গত বছর গৃহীত ঐতিহাসিক মহামারি চুক্তির অসমাপ্ত অংশ নিয়ে আলোচনায় আবারও বসেছেন ডব্লিউএইচওর সদস্য রাষ্ট্রগুলো। কোভিড-১৯ মহামারির সময় বৈশ্বিক সমন্বয়হীনতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এ চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস সোমবার সদস্য দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘পরবর্তী মহামারি আমাদের প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা করবে না।’
তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে ডিআর কঙ্গোতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবই তার প্রমাণ। এটি কোনো নীতিপত্রে উল্লেখ করা দূরবর্তী বা কাল্পনিক পরিস্থিতি নয়; এটি এখনই ঘটছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইবোলাই হয়তো পরবর্তী মহামারি হবে না। কিন্তু এটি আমাদের বেদনাদায়কভাবে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, এ ধরনের হুমকি কখনোই পুরোপুরি দূর হয়ে যায় না।’
খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ হলেও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতায় অস্থিতিশীল ইতুরি প্রদেশে কয়েকটি রহস্যজনক মৃত্যুর পর গত ১৫ মে ডিআর কঙ্গোতে এটি ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এবং আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরলের মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, ডিআর কঙ্গো থেকে ফ্রান্সে গিয়ে ইবোলায় আক্রান্ত হওয়া দেশটির প্রথম রোগী—একজন চিকিৎসক সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন বলে শনিবার জানিয়েছেন ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ওই চিকিৎসক ২৩ জুন ডিআর কঙ্গো থেকে ফ্রান্সে পৌঁছানোর পর তার শরীরে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল।