শিরোনাম

ঢাকা, ২ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের পর উত্তেজনা প্রশমন ও আলোচনাকে এগিয়ে নিতে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরেক দফা পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা।
গত জুনে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সম্মত হয়। এতে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ স্থগিত রাখতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনার রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১৪ দফার ওই সমঝোতায় হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা, ইরানের পুনর্গঠন তহবিল এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন ইস্যুতে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
দোহার সর্বশেষ আলোচনা নিয়ে যা জানা গেছে:
কী বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে
দোহা খেকে এএফপি জানায়, বুধবার দোহায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, ‘বুধবার দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং তাতে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।’
ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, সমঝোতা স্মারকের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের অভিযোগ নথিভুক্ত ও পর্যালোচনার জন্য বৃহস্পতিবারের মধ্যে একটি যোগাযোগব্যবস্থা চালুর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।
তিনি জানান, ইরানের জব্দ করা সম্পদও আলোচনায় উঠে এসেছে। যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে এসব সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে তেহরান।
গারিবাবাদি বলেন, প্রাথমিকভাবে ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি অংশ কীভাবে ব্যবহার করা হবে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে এবং ইরানের প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় ও সরবরাহে সম্মতি হয়েছে।
এদিকে বুধবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘সবকিছু যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ভালোভাবেই এগোচ্ছে।’
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে জানায়, দোহার এই বৈঠকে মূলত হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পারমাণবিক ইস্যু পরবর্তী দফার বৈঠকে আরও বিস্তারিতভাবে আলোচিত হবে।
এরপর কী
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন শেষে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পরবর্তী পরোক্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
৮৬ বছর বয়সী আলি খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তাঁর বাসভবনে নিহত হন। এরপর দ্রুত তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়।
শনিবার তেহরানে কেন্দ্রীয় প্রার্থনা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানস্থলে তার রাষ্ট্রীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, ‘শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব’ পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।
আগামী ৯ জুলাই তার জন্মস্থান উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে।
মাঠের পরিস্থিতি
জুনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রয়াসকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সর্বশেষ গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ‘বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের’ জবাবে তারা ইরানের ১০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করে। কুয়েত ও বাহরাইন উভয়েই এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
তবে কাতারে আলোচনা শুরুর আগের কয়েক দিনে উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতা তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে।
অন্যদিকে লেবানন সীমান্তেও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অনেকটাই কমেছে। তবে বুধবার সন্ধ্যায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়াহ শহরে একটি হামলার খবর দিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। এতে হতাহতের কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
লেবানন এখনও অপেক্ষা করছে তথাকথিত ‘পাইলট জোন’ থেকে ইসরাইলি বাহিনীর প্রত্যাহারের জন্য। দুই দেশের মধ্যে হওয়া কাঠামোগত চুক্তি অনুযায়ী এসব এলাকায় পরে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন হওয়ার কথা।
তেহরান বরাবরই বলে আসছে, যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবানন ফ্রন্টের সংঘাতেরও অবসান এবং দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।