বাসস
  ০১ জুলাই ২০২৬, ১৪:০৪

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পর কাতারে আলোচনা

ঢাকা, ১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর মঙ্গলবার দোহায় কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। 

কাতার এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে ইরান জানিয়েছে, তাদের একটি প্রতিনিধিদল দোহায় যাবে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি আলোচনা হওয়ার দাবি নাকচ করে দিয়েছে।

দোহা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

কাতার জানায়, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মধ্যে কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা সরাসরি আলোচনার পরিকল্পনা নেই।

কারা অংশ নিচ্ছেন, কবে হচ্ছে-

ট্রাম্প সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, ইরান পরদিন কাতারে নতুন করে আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে।

তিনি লিখেন, ‘এটি আগামীকাল দোহায় অনুষ্ঠিত হবে।’

ট্রাম্পের ওই পোস্টের পর তার মুখপাত্র ফক্স নিউজকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এ সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে দোহায় যাচ্ছেন।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মঙ্গলবার নিশ্চিত করেন যে উইটকফ ও কুশনার দোহায় রয়েছেন। 

তবে তিনি বলেন, ‘তারা এখানে ইরানিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য আসেননি।’

তিনি জানান, তারা কাতারের মধ্যস্থতাকারী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় থাকবে। এর মধ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ও লেবাননের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানান, দেশটির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। 

তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে বুধবার মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইরানের প্রথম বৈঠক হবে।

আলোচনার মূল বিষয়-

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ। উভয়পক্ষের সমঝোতায় এ নৌপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও আলোচনা বাকি।

শনিবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের সময় একটি জাহাজে হামলার পর সপ্তাহের শেষে এ নৌপথে জাহাজ চলাচল কমে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, সমঝোতা স্মারকের সব বিষয় নিয়েই আলোচনা চলবে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ‘ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা’ নিয়েও সম্প্রতি ওমানের সঙ্গে আলোচনা করেছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের অর্থও আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোমবার বলেন, এ অর্থ ছাড়ের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে। 

তিনি জানান, মোট ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের মধ্যে ৬০০ কোটি ডলার দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

বাকায়ি মঙ্গলবার বলেন, কাতারের পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ ছাড়ের বিষয়টিও থাকবে।
সংঘাত কিছুটা কমেছে-

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে বিক্ষিপ্ত হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের দাবি কার্যকর করতে গিয়ে ইরানের পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সবশেষ রোববার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের জবাবে তারা ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

ইরান জানায়, এর জবাবে তারা কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইন উভয় দেশই তেহরানের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।

গরিবাবাদি মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এ ধরণের বড় যুদ্ধের অবসান হতে হলে, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ, বিভিন্ন ঘটনা ও মতপার্থক্য থাকবেই। বিশেষ করে ইসরাইলি শাসনের মতো পক্ষ জড়িত থাকলে।’

তিনি বলেন, ইরানের প্রতিনিধিদল লেবানন ও হরমুজ প্রণালী-সংক্রান্ত ধারাগুলোর বাস্তবায়নের বিষয়েই বেশি গুরুত্ব দেবে।

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই ইসলামী প্রজাতন্ত্র এ চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শত্রুপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেরও তাদের অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে।’

তবে কাতারের আলোচনা শুরুর আগে কয়েক দিনে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে বলে মনে হচ্ছে।
লেবাননেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে।

তেহরান বরাবরই বলে আসছে, যেকোনো সমঝোতার অংশ হিসেবে সমান্তরাল এ সংঘাতের অবসান এবং দক্ষিণ লেবাননের দখল করা এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।