বাসস
  ২৮ জুন ২০২৬, ১৮:৩৮

নিউ ক্যালেডোনিয়ায় ২০১৯ সালের পর প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ২৮ জুন, ২০২৬ (বাসস) : নিউ ক্যালেডোনিয়ায় ২০১৯ সালের পর প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

২০২৪ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, ফ্রান্সের অধীনস্থ অঞ্চলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা স্থগিত হয়ে পড়ায়, তা পিছিয়ে যায়। 
রোববার ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। 

নুমিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ফ্রান্সের সঙ্গে নিউ ক্যালেডোনিয়ার ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে নতুন দফার আলোচনায় ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারিত হবে। 
স্বাধীনতার প্রশ্নটি এবারও দেশটির রাজনীতির প্রধান ইস্যু।

রাজধানী নুমিয়ায় এএফপির এক সাংবাদিক জানান, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে। ২০২৪ সালে ভোটাধিকার সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে প্রাণঘাতী দাঙ্গার পর এবার অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৫৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। ২০১৯ সালের একই সময়ে এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

মোট এক লাখ ৯২ হাজার ৫০০ ভোটার তিনটি প্রাদেশিক পরিষদের ৭৬ জন কাউন্সিলর নির্বাচনে ভোট দেন। এর মধ্যে দক্ষিণ প্রদেশে ৪০ জন, উত্তর প্রদেশে ২২ জন ও লয়্যালটি দ্বীপপুঞ্জে ১৪ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন।

নির্বাচিতদের মধ্যে ৫৪ জন প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দ্বীপপুঞ্জের কংগ্রেসের সদস্য হবেন। এটি অঞ্চলটির প্রধান আইনসভা ও স্থানীয় আইন প্রণয়নের একমাত্র ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান।
পরে কংগ্রেস সদস্যরা নির্বাহী শাখা হিসেবে পরিচিত যৌথ সরকারে সর্বোচ্চ ১১ জন সদস্য নির্বাচন করবেন।

আদিবাসী কানাক জনগোষ্ঠীর ৪৩ বছর বয়সী সেডরিক ইক্সেকো বলেন, ‘ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আমার দাদা-দাদিরা কঠোর সংগ্রাম করেছেন।’ 

তিনি আরও বলেন, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তন দেখতে চান।

৫৩ বছর বয়সী বারবারা মেলান বলেন, এই নির্বাচন দ্বীপপুঞ্জটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, আমরা যেন দেশকে স্থিতিশীল করতে পারি ও একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হই।’
নতুন আলোচনার প্রস্তুতি-

নির্বাচনের আগে স্বাধীনতাপন্থী প্রধান জোট ফ্রান্সের সঙ্গে হওয়া একটি সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করে। ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

‘বুগিভাল চুক্তি’ অনুযায়ী একটি ক্যালেডোনীয় রাষ্ট্র গঠন এবং ফরাসি সংবিধানে ক্যালেডোনীয় জাতীয়তার স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ছিল। তবে এর বিনিময়ে ভবিষ্যতে স্বাধীনতা নিয়ে আর কোনো গণভোট আয়োজন করা হতো না।

২০১৮, ২০২০ ও ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত তিনটি গণভোটেই ফ্রান্সের অংশ হিসেবে থাকার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মত আসে। 

তবে স্বাধীনতাপন্থীরা কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনুষ্ঠিত ২০২১ সালের তৃতীয় গণভোট বর্জন করেছিল।

তবুও বিশেষ করে আদিবাসী মেলানেশীয় কানাক জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষে শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে।

গত মে মাসে পাস হওয়া একটি আইনের মাধ্যমে আগে ভোটার তালিকার বাইরে থাকা স্থানীয়ভাবে জন্ম নেওয়া প্রায় ১০ হাজার ৫৭৫ জনকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে চার হাজারের বেশি ‘প্রচলিত নাগরিক মর্যাদা’ধারী, যা কানাক জনগোষ্ঠীর পরিচায়ক।

এর ফলে, রোববারের নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে। ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক চুক্তির অধীনে এতদিন ভোটার তালিকা স্থির ছিল।

এর আগে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী হাজারো অনাদিবাসী বাসিন্দাকে ভোটাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালে ভয়াবহ দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সহিংসতায় ১৪ জন নিহত হন। 

দুই বছরের বেশি সময় পরও পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্রান্স প্রায় দুই হাজার ৪০০ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছে। তারা জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করবেন।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু জানান, আগামী মাসে নিউ ক্যালেডোনিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হবে। বছরের শেষ নাগাদ একটি সমঝোতায় পৌঁছানোই সেই আলোচনার লক্ষ্য।