বাসস
  ২৬ জুন ২০২৬, ১৭:৫০

ছেলের খোঁজে খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ছেন ভেনেজুয়েলার এক মা

ঢাকা, ২৬ জুন, ২০২৬ (বাসস): ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ছেলেকে খুঁজে পেতে খালি হাতে কংক্রিটের বিশাল স্তূপ খুঁড়ে চলেছেন আম্পারো দেল জিউদিসে।

বুধবার সন্ধ্যায় ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এসব ভয়াবহ ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি লা গুয়াইরা। সেখানে অসংখ্য পরিবারের মতো দেল জিউদিসের পরিবারেও নেমে এসেছে এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি।

ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৫ জনে। আহত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি সহায়করা না পৌঁছলে হতাশ দেল জিউদিসে। খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টারত এই মা বলেন, ‘এখানে অনেক পাথর। খালি হাতে এগুলো সরানো অসম্ভব।’

তিনি যেখানে মনে করছেন তার ছেলে আটকে আছেন, সেখান থেকে অল্প দূরে বসে এ কথা বলেন।

তার ২৩ বছর বয়সী নাতি আলেসান্দ্রো স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মীর হেলমেট পরে নিখোঁজ বাবাকে খুঁজতে উদ্ধারকাজে যোগ দেন।

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘উনি ভেতরেই আছেন।’

প্রায় ২৫ হাজার মানুষের জনপদ লা গুয়াইরা একসময় ছিল রাজধানী কারাকাসের মানুষের ক্যারিবীয় সাগরের সৌন্দর্য উপভোগের জনপ্রিয় গন্তব্য। সুইমিংপুল-সমৃদ্ধ বহু উঁচু ভবন ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানে।

অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ বৃহস্পতিবার অঞ্চলটি পরিদর্শন করে এটিকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করেন।

এএফপির প্রতিনিধিরা সেখানে লুটপাটের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন।

চারদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ আর আতঙ্কে স্তব্ধ মানুষের মুখ।

বিলাসবহুল সমুদ্রতীরবর্তী আবাসিক ভবনগুলো এখন ধাতু, কাচ ও কংক্রিটের স্তূপে পরিণত হয়েছে। সেগুলোর চারপাশে তখনো ধুলার মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছিল।

উপকূলীয় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। উপকূলজুড়ে অনেক ভবন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক ভবন পুরোপুরি ধসে গেছে। দুটি পাঁচতারকা হোটেলও ধসে পড়েছে।

উদ্ধারকারী দল ও স্বেচ্ছাসেবীরা একসময় ১৫ তলা পর্যন্ত উঁচু ছিল এমন ভবনের ধ্বংসস্তূপে উঠে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম ধরে ডাকতে থাকেন।

ভেনেজুয়েলায় একের পর এক আফটারশক অনুভূত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি ভবন প্রতিটি কম্পনেই বিকট শব্দে কেঁপে উঠছিল।