শিরোনাম

ঢাকা, ২৬ জুন, ২০২৬ (বাসস): শক্তিশালী দু’টি ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় অন্তত ২৩৫ জনের প্রাণহানি ও দেড় সহস্রাধিক মানুষ আহত হওয়ার একদিন পর শুক্রবার দেশটির জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা, উদ্ধারকারী দলও শোকবার্তা প্রেরণ অব্যাহত রয়েছে।
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে জানান, জাতিসংঘের স্বীকৃত উদ্ধারকর্মীরা ভূমিকম্পে আটকে পড়া জীবিতদের খুঁজে বের করার কাজে সহায়তা করবেন।
কারাকাস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
তুরস্ক জানায়, ৬৭ সদস্যের একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসাকর্মী ও ত্রাণকর্মী, দু’টি অনুসন্ধানী কুকুর এবং তিনটি উদ্ধারযান নিয়ে শুক্রবার সকালে ইস্তাম্বুল থেকে দু’টি সামরিক বিমানে ভেনেজুয়েলার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
স্পেন ও ফ্রান্স কয়েক ডজন বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে। জার্মানি ছয়টি সামরিক পরিবহন বিমান পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সুইজারল্যান্ড ৮০ জন উদ্ধারকর্মী, আটটি উদ্ধারকারী কুকুর এবং ১৮ টন সরঞ্জাম যত দ্রুত সম্ভব ভেনেজুয়েলায় পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করছে।
নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েনের জন্য ২০ লাখ ইউরোর সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। চেক প্রজাতন্ত্র জানিয়েছে, তাদের দলও ভেনেজুয়েলায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেডারেশন (আইএফআরসি) জানায়, পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তারা ২৫ লাখ মার্কিন ডলার ছাড় করেছে।
ভ্যাটিকান জানায়, পোপ চতুর্দশ লিও ভেনেজুয়েলার জন্য প্রাথমিক জরুরি সহায়তা হিসেবে ১ লাখ ইউরো পাঠিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা দু’টি যুদ্ধজাহাজ, পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করছে। পাশাপাশি ১৫ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা দিচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দ্রুত ও কার্যকর 'পুরো সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে' সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আমাদের নতুন ও মহান বন্ধুদের পাশে থাকব।’
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত ও আটক করে। এরপর থেকে ভেনেজুয়েলা ওয়াশিংটনের নিবিড় তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত উপায়ে যতটুকু সম্ভব সহায়তা দিতে চীন প্রস্তুত।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তা দিতে ইরানের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা একটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল, ৩৬ জন দমকলকর্মী ও কয়েকজন উদ্ধার ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞকে শুক্রবার ও শনিবার দু’টি ফ্লাইটে ভেনেজুয়েলায় পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তার দেশ উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসাসেবা কর্মীদের একটি সামরিক দল পাঠাচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও সহায়তা পাঠানো হবে।
এর আগে তিনি এক্স-এ লিখেছিলেন, ‘মেক্সিকো সবসময় সংহতির পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’
এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে জানান, ৩০০ জন উদ্ধারকর্মী ও প্যারামেডিক, ৫০ টন সরঞ্জাম, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, কিউবার স্বাস্থ্যকর্মীরা ইতোমধ্যে পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত মানবিক সহায়তা ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়াও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, তারা ৬০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী এবং ১২ টন মানবিক সহায়তা ভেনেজুয়েলায় পাঠাবে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এক্স-এ লিখেছেন, ‘কলম্বিয়া সবসময় ভেনেজুয়েলার পাশে থাকবে।’
আর্জেন্টিনা, কোস্টারিকা ও উরুগুয়েও সংহতি প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে ইকুয়েডর ও ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র জানিয়েছে, তারা সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে জাপান। পূর্ব এশিয়ার দেশটিও বৃহস্পতিবার ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। তবে সেখানে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে স্পেন সবার আগে প্রতিক্রিয়া জানায়।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি 'পূর্ণ সমর্থন' জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের চিন্তা মৃতদের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে রয়েছে।’
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসও একই ধরনের সমবেদনা জানিয়েছেন।
ফ্রান্স সরকার ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তারা কারাকাসে তাদের দূতাবাসও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
যুদ্ধে জড়িত দুই দেশ ইউক্রেন ও রাশিয়াও কোনো নির্দিষ্ট সহায়তার ঘোষণা না দিয়ে সমবেদনা জানিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা তাদের স্যাটেলাইট নজরদারি ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। সংস্থাটির ত্রাণ কমিশনার হাজা লাহবিব অনলাইনে লিখেছেন, ‘প্রয়োজন হলে আমরা সহায়তা আরো বাড়াতে প্রস্তুত আছি।