শিরোনাম

ঢাকা, ১৯ জুন, ২০২৬ (বাসস) : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে উপহাস করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পর যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি।
আগামী ২১ ও ২২ জুন তার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে শুক্রবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গুরুতর ও অপমানজনক বক্তব্য... শুধু প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে নয়, সমগ্র ইতালিকেই অপমান করেছে।’
রোম থেকে এএফপি জানায়, ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল ‘লা সেতে’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তুলতে ‘খুবই আগ্রহী’ ছিলেন এবং তিনি ‘করুণা করেই’ তাতে সম্মত হন।
চ্যানেলটির প্রকাশিত প্রতিলিপি অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেন, ‘সে আমার সঙ্গে ছবি তুলতে খুবই চেয়েছিল। আমি তার জন্য খারাপ বোধ করেছিলাম বলেই রাজি হয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো সে খুশি যে আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। আমার তার সঙ্গে কথা বলার কোনো প্রয়োজন ছিল না।’
ট্রাম্পের এ মন্তব্যকে ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মেলোনি।
তিনি এক্সে লেখেন, ‘আমি কিংবা ইতালি কখনো কারও কাছে ভিক্ষা চায় না।’
কট্টর ডানপন্থী এ নেতা আরও বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজের মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করছেন।’
তিনি বলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুদের প্রতি, কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ নেতাদের প্রতি তিনি এমন কঠোর অবস্থান দেখান না; বরং তাদের প্রতি তিনি অনেক বেশি নমনীয়।’
গত বুধবার ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন শেষে মেলোনি বলেছিলেন, সেখানে ‘খুবই ইতিবাচক পরিবেশ’ ছিল এবং ট্রাম্প ও অন্য নেতাদের মধ্যে ‘কোনো মতবিরোধ ছিল না’।
ইউরোপ ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করে আসছিলেন মেলোনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে শুরু করে।
এপ্রিল মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে তার বিরোধ তীব্র হয়, যখন তিনি পোপ লিও চতুর্দশের যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে পোপের পক্ষে অবস্থান নেন।
মেলোনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে তখন ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দেন। এর জবাবে ট্রাম্প ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, ‘আমি তাকে দেখে বিস্মিত। আমি ভেবেছিলাম তার সাহস আছে, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।’
সে সময় ইতালীয় দৈনিক কোরিয়েরে দেলা সেরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, মেলোনি ন্যাটোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেননি।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, ইরান যুদ্ধের সময় ইতালি যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা না করায় দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হতে পারে।