বাসস
  ১৮ জুন ২০২৬, ১৬:২৩

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর বাণিজ্য আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানালেন মোদি

ঢাকা, ১৮ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে। 

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বুধবার ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে সাক্ষাতের পর এটিই ছিল তাদের প্রথম বৈঠক।

নয়াদিল্লি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠক-পরবর্তী বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্যে চলমান আলোচনায় যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তাতে দুই নেতা বিশেষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’

এভিয়ানে সাংবাদিকরা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বাণিজ্য চুক্তির কতটা কাছাকাছি পৌঁছেছে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তারা ‘খুব কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে।

মোদিকে ‘সবচেয়ে কঠিনদের একজন’ বলে মন্তব্য করেন মার্কিন  প্রেসিডেন্ট। 

ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি দেখতে খুবই সুন্দর। তাকে খুব ভদ্র মনে হয়। তিনি যেন একজন ফেরেশতা, কিন্তু বাস্তবে তিনি একজন খুনী।’

বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা ‘যত দ্রুত সম্ভব বাণিজ্যিকভাবে অর্থবহ একটি চুক্তি’ সম্পন্ন করতে কাজ করেন।

নতুন দফার আলোচনায় অংশ নিতে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার ভারত সফর করবেন।

ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বাজারে প্রবেশাধিকার ও শুল্কসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে তারা একাধিক দফা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছিল। তবে ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেওয়ার পর আলোচনা ধীর হয়ে যায়।

আদালতের ওই রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ভারতসহ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার অভিযোগ তদন্ত শুরু করে। একই সঙ্গে ১০ শতাংশ হারে সাধারণ শুল্ক আরোপ করা হয়।

ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল জুনের শুরুতে বলেছিলেন, বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপের কাজ ‘প্রায় ৯৯ শতাংশ’ সম্পন্ন হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ট্রাম্পের প্রতি ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান মোদি।

গত ১০ জুন ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরণের চাপ সৃষ্টি হয়। তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী।

বুধবার মোদি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।

তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সংকটের কারণে জ্বালানি, সার ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিঘ্ন ঘটেছে, তা দীর্ঘ সময় ধরে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে থাকবে।’