বাসস
  ১৭ জুন ২০২৬, ১২:৩০

তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনের পথে বাধা কাটালেন ডিআর কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট

ঢাকা, ১৭ জুন, ২০২৬ (বাসস) : গণভোট আয়োজন সংক্রান্ত একটি বিল পাস করেছে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) সিনেট। 

সোমবার পাস হওয়া এ বিল প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স তশিসেকেদির জন্য সংবিধান সংশোধন ও তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ খুলে দিতে পারে।

সরকারের সংবিধান পরিবর্তনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের তিন দিন পর সিনেটে এ ভোট অনুষ্ঠিত হয়। 

বিরোধীরা অভিযোগ করছে, ক্ষমতায় টিকে থাকার উদ্দেশ্যেই প্রেসিডেন্ট এ উদ্যোগ নিয়েছেন। ওই বিক্ষোভ চলাকালে তশিসেকেদি-সমর্থক ও বিরোধী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। 

কিনশাসা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

২০১৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা তশিসেকেদির দ্বিতীয় ও বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী শেষ পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালে।

তবে গত মাসে ৬৩ বছর বয়সী এ প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে গণভোটের পর জনগণ চাইলে, তিনি সংঘাত কবলিত দেশটির নেতৃত্বে তৃতীয় মেয়াদেও দায়িত্ব পালন করতে রাজি আছেন।

এর আগে, সিনেটে পাস হওয়া বিলটি চলতি মাসের শুরুতে নিম্নকক্ষেও অনুমোদন পায়। এটি মূলত গণভোট আয়োজনের কাঠামো ও প্রক্রিয়া সম্পর্কিত একটি কারিগরি বিল।

তবে এটি কঙ্গোর সংবিধানে প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত কঠোর দুই মেয়াদের সীমা বাতিলের উদ্যোগের পথ তৈরি করতে পারে।

এখন বিলটি সাংবিধানিক আদালতের অনুমোদনের জন্য যাবে। এরপর প্রেসিডেন্ট তশিসেকেদির স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে।

মধ্য আফ্রিকার বিস্তীর্ণ ও দরিদ্র দেশ ডিআর কঙ্গো বর্তমানে প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাবের পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলে রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

তশিসেকেদি ইতোমধ্যেই নিজের ক্ষমতার অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন। সংসদে তার জোটের বড় ধরণের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

প্রধান বিরোধী দলগুলো গত মাসে একজোট হয়ে একটি জোট গঠন করে। 

তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করছেন।

এএফপির সাংবাদিকরা জানায়, শুক্রবারের বিক্ষোভে কয়েকজন বিরোধী নেতা আহত হন। সরকার-সমর্থক ও পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় সরকারি কোনো হতাহতের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। 

তবে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।