শিরোনাম

ঢাকা, ১৭ জুন, ২০২৬ (বাসস) : দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, অত্যন্ত সুরক্ষিত সামরিকীকৃত সীমান্ত এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর অংশ হিসেবে নতুন নিয়মের আওতায়, দক্ষিণ কোরিয়ার বেসামরিক নাগরিকরা এখন উত্তর কোরিয়ার আরও কয়েক কিলোমিটার কাছাকাছি যেতে পারবেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ শান্তিচুক্তির পরিবর্তে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হওয়ায়, দুই কোরিয়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। দুই দেশের মাঝখানে রয়েছে অসামরিকীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেড), যার মধ্য দিয়েই সীমান্তরেখা অতিক্রম করেছে।
এতদিন সীমান্তের দক্ষিণে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বেসামরিক জনসাধারণের প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ ছিল। সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তার স্বার্থে একটি ‘বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখা (সিসিএল) নামে পরিচিত এই সীমাবদ্ধতা কার্যকর ছিল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহন গিউ-ব্যাক সাংবাদিকদের জানান, নতুন নিয়ম অনুযায়ী সিসিএল গড়ে ১০ কিলোমিটার থেকে কমিয়ে ৬ কিলোমিটার করা হবে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও পর্যটকদের জন্য সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রবেশ সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘সামরিক কার্যক্রমের কার্যকারিতা বজায় রেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের সুবিধা বাড়ানোই এ পদক্ষেপের লক্ষ্য।’
নতুন ব্যবস্থার আওতায় কৃষিকাজে ব্যবহৃত ড্রোন উড্ডয়নের অনুমোদন প্রক্রিয়াও উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ করা হবে।
আহন বলেন, ‘সামরিক কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন না ঘটিয়ে আঞ্চলিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা হবে।’
গত বছর দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তে স্থাপিত লাউডস্পিকার অপসারণ করেছে। এগুলোর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার দিকে কে-পপ গান ও সংবাদ সম্প্রচার করা হতো।
প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং-এর সরকার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর নীতি গ্রহণের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেয়।
এর আগে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের শাসন আমলে পিয়ংইয়ং সীমান্তের ওপার থেকে অদ্ভুত ও বিরক্তিকর শব্দ সম্প্রচার করত, যা দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছিল।