বাসস
  ১৬ জুন ২০২৬, ১৬:০৫

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মস্কোর তেল শোধনাগারে আগুন

ঢাকা, ১৬ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ইউক্রেনের একটি ড্রোন মঙ্গলবার মস্কোর উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি বড় তেল শোধনাগারে আঘাত হানলে সেখানে আগুন লেগে যায় ও স্থাপনাটির ক্ষতি হয়। 

রুশ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।

অন্যদিকে ইউক্রেন বলেছে, রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার জবাবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

এর একদিন আগে ইউক্রেন জানায়, রাশিয়া দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ৬ শতাধিক ড্রোন ও ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়। 

কিয়েভে ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত একটি অর্থোডক্স চার্চের অংশও এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মস্কো  থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সেমিওনোভিচ সোবিয়ানিন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ম্যাক্স প্ল্যাটফর্মে বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় মস্কোর ওপর শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলা অব্যাহত ছিল। একটি ড্রোন মস্কোর একটি তেল শোধনাগার স্থাপনায় আঘাত করেছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’

সোবিয়ানিন জানান, মঙ্গলবার মস্কোর দিকে ছোড়া ৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস একে চলতি বছরে রুশ রাজধানীকে লক্ষ্য করে চালানো সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কাপোতন্যা এলাকায় অবস্থিত ওই তেল শোধনাগারকে ঘিরে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। জ্বালানি প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমের মালিকানাধীন শোধনাগারটি ওই এলাকাতেই অবস্থিত।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এই হামলার পেছনে কিয়েভই ছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘এবার মস্কো অঞ্চল ইউক্রেনের দূরপাল্লার সক্ষমতার নাগাল অনুভব করেছে। ৫০০ কিলোমিটার দূরে থাকা একটি তেল শোধনাগারে আঘাত হানা হয়েছে।’

তিনি একটি ভিডিওও প্রকাশ করেন। 

সেখানে দেখা যায়, একটি ড্রোন আবাসিক ভবনের ওপর দিয়ে উড়ে শিল্পাঞ্চলে আঘাত হানে। পরে একটি লাল-সাদা চিমনির পাশে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার হামলার বিরুদ্ধে এটি ন্যায্য জবাব। সেই সঙ্গে এমন একটি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করারও জবাব, যার অবসান হওয়া প্রয়োজন।’

২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়া প্রায় প্রতিদিনই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ায় হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন।