শিরোনাম

ঢাকা, ১২ জুন, ২০২৬ (বাসস) : কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো অভিযোগ করেছেন, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে তার বৈঠকে বাধা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি এ ঘটনাকে নিজের ‘স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গত বুধবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাতিসংঘে আয়োজিত বৈঠকে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে মেয়র মামদানির সাথে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের একটি নির্ধারিত বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে দেন যে, এই বৈঠক গত বছর ট্রাম্পের সঙ্গে বিবাদের জেরে পেত্রোর ওপর আরোপিত ভিসা নিষেধাজ্ঞায় লঙ্ঘন হবে। পরে এই বৈঠক বাতিল করা হয়।
বোগোটা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
বর্তমানে পেত্রো কেবল সরকারি কাজে কূটনৈতিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, তার চলাফেরার ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে কিনা, এ বিষয়ে তাকে কখনো জানানো হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেন, ‘নিউইয়র্কের মেয়রের সঙ্গে কথা বলার স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। আমি এটিকে অগণতান্ত্রিক মনে করি। একইভাবে, বোস্টনে আমন্ত্রিত একটি বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে আমার চিন্তার স্বাধীনতাও খর্ব করা হয়েছে।’
ডেমোক্র্যাট নেতা মামদানি গত নভেম্বরে ‘সমাজতান্ত্রিক’ ও অভিবাসীবান্ধব রাজনৈতিক কর্মসূচির ভিত্তিতে মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
কলম্বিয়ার প্রথম বামপন্থী প্রেসিডেন্ট পেত্রোর সঙ্গে ট্রাম্পের বিভিন্ন বিষয়ে একাধিকবার বিরোধ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিবাসী বহিষ্কার, মাদক পাচারে ব্যবহৃত সন্দেহভাজন নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী হামলা এবং কোকেন পাচার দমনে পেত্রোর ভূমিকা।
গত সপ্তাহে এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেয়াদের শেষ প্রান্তে থাকা পেত্রো অভিযোগ করেন, তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কথিত মাদকবিরোধী অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে মাদক পাচারকারীদের সঙ্গেই হাত মিলিয়েছে।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ডানপন্থী আইনজীবী আবেলার্ডো দে লা এসপ্রিয়েলাকে সমর্থন দিচ্ছে।
আগামী ২১ জুনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রান-অফ ভোটে পেত্রোর পছন্দের প্রার্থী, বামপন্থী সিনেটর ইভান সেপেদাকে দে লা এসপ্রিয়েলা হারিয়ে দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ডানপন্থী আইনজীবী মূলত মাদক পাচারকারী, আধাসামরিক বাহিনী এবং একটি পিরামিড স্কিমের মূল হোতার পক্ষে আইনি লড়াই করে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন।
নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি’ জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।