শিরোনাম

ঢাকা, ১০ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে বেদুইন ও পশুপালননির্ভর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ইসরাইল ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযান চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
রামাল্লা থেকে এএফপি জানায়, বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংগঠনটি দাবি করে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূখ-ের দখল বা অন্তর্ভুক্তিকরণ (অ্যানেক্সেশন) ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই গ্রামীণ ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠী বসতি স্থাপনকারী ইসরাইলিদের সহিংসতা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির প্রধান শিকার হচ্ছে।
অ্যামনেস্টি জানায়, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’-তে অন্তত ২৭টি বেদুইন ও পশুপালক সম্প্রদায়—যাদের মধ্যে শত শত ফিলিস্তিনি রয়েছে—জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে অথবা বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই এলাকা পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত এবং ১৯৯০-এর দশকের অসলো চুক্তি অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে।
‘ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বেদুইন ও পশুপালন সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রনেতৃত্বাধীন একটি জাতিগত নির্মূল অভিযানের মাধ্যমে দখলদারিত্ব দ্রুততর করছে,’ প্রতিবেদনে বলা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরাইলের বর্তমান সরকার—যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম ডানপন্থী—বসতি স্থাপনকারীদের ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী এজেন্ডাকে সহায়তা করছে।
অ্যামনেস্টির মতে, সরকার বসতি সম্প্রসারণ বাড়িয়েছে, বসতি এলাকায় আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা বৃদ্ধি করেছে এবং বসতি স্থাপনকারীদের অস্ত্রধারণের সুযোগ দিয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রসমর্থিত সহিংসতা বেড়েছে।
প্রতিবেদনটি আরও দাবি করে, কিছু ইসরাইলি কর্মকর্তার প্রকাশ্য আহ্বান এবং ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি কমানোর নীতিগত পদক্ষেপগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করছে।
সংগঠনটি বলেছে, এই ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান রাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন এবং রাষ্ট্র-সমর্থিত; এটি কেবল কিছু উগ্র বসতি স্থাপনকারীর কাজ নয়।’
‘অবৈধ বহিষ্কার’
ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ পশ্চিম তীর দখলের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণে মঙ্গলবার তাকে ফ্রান্সে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও ২০২৬ সালের মে মাসে গাজা ও পশ্চিম তীরে ‘জাতিগত নির্মূলের ইঙ্গিত’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
অ্যামনেস্টি ইসরাইলের দখলদার শক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেছে, তারা গুরুতর লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে ‘অবৈধ বহিষ্কার ও জনসংখ্যা স্থানান্তর’ যা যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
বেদুইন ও পশুপালন নির্ভর সম্প্রদায়গুলো, যারা প্রায়ই বিচ্ছিন্ন এলাকায় বসবাস করে এবং নিরাপত্তা সুরক্ষার বাইরে থাকে, তারা বিশেষভাবে সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকিতে রয়েছে।
অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বার্লিনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বলেন, জার্মানি এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ ইসরাইলের নীতিকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, ব্যক্তিবিশেষের ওপর নিষেধাজ্ঞা ‘প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ হলেও তা বসতি সম্প্রসারণ বা সহিংসতা থামাতে কার্যকর প্রভাব ফেলছে না।
তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তি স্থগিতের আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালে প্রতিদিন গড়ে ছয়টি ঘটনায় পৌঁছেছে।