বাসস
  ১০ জুন ২০২৬, ১৬:২১

স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালট সংকটের জেরে দ. কোরিয়াজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১০ জুন, ২০২৬ (বাসস) : সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালট পেপারের ঘাটতিকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকায়, দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বুধবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুন অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনের দিন দেশজুড়ে কয়েক ডজন ভোটকেন্দ্রে প্রায় ৭ হাজার ব্যালট পেপারের ঘাটতি দেখা দেয়।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

যদিও ভোটের দিনই প্রয়োজনীয় ব্যালট সরবরাহ করা হয়েছিল, তবুও এই ঘটনা জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে এমন সময়ে এ ঘটনা ঘটেছে, যখন ভোট কারচুপি নিয়ে ভিত্তিহীন নানা অভিযোগ দেশটির একাংশের মানুষের মধ্যে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে।

২০২৪ সালের শেষ দিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারি করলে তীব্র রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়। পরে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। 

এর পর ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং-এর অধীনে এটিই ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম দেশব্যাপী  নির্বাচন।

প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের ক্ষমতাসীন উদারপন্থী ডেমোক্রেটিক পার্টি মেয়র, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও পরিষদ সদস্য নির্বাচনের অধিকাংশ পদে জয়লাভ করে। তবে রাজধানী সিউলের গুরুত্বপূর্ণ মেয়র পদটি নিজেদের দখলে নিতে ব্যর্থ হয়।

ব্যালট সংকটের ঘটনায় নির্বাচন তদারকি সংস্থার প্রধান ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। তবে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের কোনো ঘোষণা না আসায় গত সপ্তাহে দেশজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

দেশটির ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠন জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে তারা নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে।

ইয়োনসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিষদের প্রতিনিধি হোয়াং ইন-সিও এএফপিকে বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শ যাই হোক না কেন, এই ঘটনায় সবাই ক্ষুব্ধ। তাই আমরা প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

বিশ্লেষকদের মতে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও, দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নির্বাচন কমিশনে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে।

এদিকে, রাজধানী সিউলের একটি আদালত এই সপ্তাহে ব্যালট সংকটে আক্রান্ত একটি ভোটকেন্দ্রের প্রমাণাদি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে প্রসিকিউটর ও পুলিশ যৌথ তদন্ত দল গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছে।