শিরোনাম

ঢাকা, ১০ জুন, ২০২৬ (বাসস) : পোপ লিও চতুর্দশ বুধবার বার্সেলোনার বিখ্যাত সাগ্রাদা ফামিলিয়া ব্যাসিলিকার নতুন টাওয়ারে আশীর্বাদ করবেন। তিনি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু এই গির্জার গণপ্রার্থনা পরিচালনা করবেন।
বার্সেলোনা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
স্থপতি অ্যান্টনি গাউদির নকশায় নির্মিত এই আধুনিক স্থাপত্যকীর্তির কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। গত বছর প্রায় অর্ধকোটি মানুষ গির্জাটি পরিদর্শন করেছেন।
স্পেনে পোপের এক সপ্তাহের সফরের মধ্যেই এ আয়োজন হচ্ছে। বুধবারই গাউদির মৃত্যুর ১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে।
১৯২৬ সালের ১০ জুন তিনি মারা যান।
ধর্মপ্রাণ ক্যাথলিক গাউদির সাধুত্ব ঘোষণার প্রক্রিয়া ভ্যাটিকানে এগিয়ে চলছে।
একটি গির্জায় প্রার্থনা করতে যাওয়ার পথে ট্রামের ধাক্কায় তিনি আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।
পোপ লিও গত শনিবার স্পেনে পৌঁছান। সফরের শুরুতে তিনি মাদ্রিদে স্পেনের পার্লামেন্টে এক অনবদ্য ভাষণ দেন। পরে ১৫ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে খোলা আকাশের নিচে এক প্রার্থনাসভা পরিচালনা করেন।
সফরকালে তিনি সমাজে ক্রমবর্ধমান মেরুকরণের সমালোচনা করেন। যুদ্ধ ও অস্ত্রসজ্জার বদলে ‘ধৈর্যশীল সংলাপের’ পক্ষে অবস্থান নেন।’
তিনি যুদ্ধ ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার পরিবর্তে ‘ধৈর্যশীল সংলাপের’ আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ছাড়া, দীর্ঘদিনের ক্যাথলিক ঐতিহ্যের দেশ স্পেনে ধর্মীয় অনুশীলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি চার্চকে নতুন করে সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে ধর্মযাজকদের যৌন সহিংসতাকে তিনি ‘অভিশাপ’ আখ্যা দিয়ে এ সমস্যা মোকাবিলায় চার্চ আরও কার্যকর ভূমিকা নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বার্সেলোনা সফর শেষে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তিনি ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ সফর করবেন। সেখানে তিনি অভিবাসন ইস্যুকে গুরুত্ব দেবেন। কারণ আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জ ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ।
বুধবার সাগ্রাদা ফামিলিয়ায় প্রার্থনাসভায় অংশ নেওয়ার আগে তিনি বার্সেলোনার উপকণ্ঠের মন্টসেরাত পর্বতমালায় অবস্থিত একটি কারাগার ও একটি অ্যাবে পরিদর্শন করবেন।
-সমাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা-
সাগ্রাদা ফামিলিয়ার কেন্দ্রীয় যিশু খ্রিস্ট টাওয়ারের নির্মাণকাজ গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়। এর ফলে ব্যাসিলিকাটির উচ্চতা দাঁড়ায় ১৭২ দশমিক ৫ মিটার বা ৫৬৬ ফুট, যা এটিকে বিশ্বের সর্বোচ্চ গির্জায় পরিণত করেছে।
তবে এর উচ্চতা ইচ্ছাকৃতভাবে বার্সেলোনার ১৭৭ মিটার উঁচু মন্টজুইক পাহাড়ের চেয়ে কম রাখা হয়েছে। গাউদি বিশ্বাস করতেন, পাহাড়টি ঈশ্বরের সৃষ্টি। তাই ধর্মীয় শ্রদ্ধাবোধ থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাগ্রাদা ফামিলিয়ার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ১৮৮২ সালে। পুরো প্রকল্প শেষ হতে আরও প্রায় এক দশক সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গির্জার নির্মাণ তদারককারী বেসরকারি ক্যানোনিক্যাল ফাউন্ডেশনটি চলতি বছর কাজ শেষ করার পরিকল্পনা করেছিল।
কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারিতে পর্যটন শিল্প স্থবির হয়ে পড়ে। এতে প্রবেশমূল্যনির্ভর স্পেনের সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীপ্রাপ্ত এই স্থাপনার প্রধান আয়ের উৎসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকেরা আবারও ভিড় করছেন। এতে গির্জার আয় বাড়ছে। প্রবেশমূল্যের অর্থের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অনুদানও এর অর্থায়নের অন্যতম উৎস।
তবে বাকি কাজের জন্য নতুন কোনো সমাপ্তির সময়সীমা নির্ধারণে এখনো অনাগ্রহী কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে বিতর্কিত গ্লোরি ফাসাদ ও এর চারটি ঘণ্টাধ্বনি টাওয়ারের নির্মাণ।
কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রধান প্রবেশপথের সামনে বড় সিঁড়ি ও একটি চত্বর নির্মাণ করা হবে। এতে দুটি আবাসিক ব্লকের সমপরিমাণ বাড়িঘর ভেঙে ফেলতে হতে পারে।
এ পরিকল্পনা ঠেকাতে স্থানীয় বাসিন্দারা বছরের পর বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।