শিরোনাম

ঢাকা, ৯ জুন, ২০২৬ (বাসস): মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে শান্তি আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও লেবাননের সেনাপ্রধান মঙ্গলবার পাকিস্তানে বৈঠক করেছেন।
এ সময় দুই দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদারে সম্মত হয়েছে। তবে, এই সফরের সঙ্গে বৃহত্তর শান্তি আলোচনার সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে।
কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান। তবে তেহরান বলছে, যেকোনো চুক্তির মধ্যে লেবাননের বিষয়ও থাকতে হবে। সেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল।
ইসলামাবাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
লেবাননের সেনাপ্রধান রোদলফ হাইকাল গত শনিবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করেন।
লেবাননভিত্তিক একটি সূত্র এএফপি-কে জানায়, এই সফরের সঙ্গে বৃহত্তর শান্তি আলোচনার যোগসূত্র রয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, দুই সামরিক প্রধান ‘পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় সামরিক সম্পর্ক জোরদারের সম্ভাবনা’ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, রাওয়ালপিন্ডিতে বৈঠকের আগে হাইকালকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বৈঠকে মুনির লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে চলা যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে লেবানন পরিস্থিতি।
হাইকালের সফরের সময়ও সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠে। তবে সোমবার ইরান ও ইসরাইল উভয়ে লড়াই বন্ধ করেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
শান্তি আলোচনার ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেন, আলোচকরা একটি চুক্তির ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ পৌঁছে গেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মিলে হত্যার ঘটনায় প্রতিশোধ নিতে গত ২ মার্চ লেবানন এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করে। জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হিজবুল্লাহর সঙ্গে গোলাগুলি ও হামলা-পাল্টা হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে ছিল। কিন্তু রোববার ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।
এদিকে গত ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননের অভ্যন্তরে তাদের উত্তর সীমান্ত থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে তথাকথিত একটি ‘ইয়েলো লাইন’ ঘোষণা করে। ওই এলাকায় তাদের স্থলবাহিনী হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহও ইসরাইলের দিকে রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে।