বাসস
  ০৯ জুন ২০২৬, ১৩:১০

ফ্রান্স-জার্মানির যৌথ যুদ্ধবিমান প্রকল্প বাতিল

ঢাকা, ৯ জুন, ২০২৬ (বাসস) : সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের মতবিরোধের কারণে ফ্রান্স ও জার্মানি যৌথভাবে পরিচালিত যুদ্ধবিমান কর্মসূচি বাতিল করতে সম্মত হয়েছে। বার্লিন সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। ইউরোপের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের প্রচেষ্টার জন্য এটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বার্লিন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

২০১৭ সালে ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেম (এফসিএএস) প্রকল্পটি চালু করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল ফ্রান্সের রাফাল যুদ্ধবিমান এবং জার্মানি ও স্পেনের ব্যবহৃত ইউরোফাইটার বিমানের বিকল্প তৈরি করা।

রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলো যখন প্রতিরক্ষায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে, তখন এই প্রকল্পকে সেই প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

তবে বহু বিলিয়ন ডলারের এই কর্মসূচি শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মতবিরোধে জর্জরিত ছিল। এর মধ্যে ছিল ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশন এবং জার্মানি ও স্পেনের প্রতিনিধিত্বকারী এয়ারবাস।

জার্মান সরকারের এক কর্মকর্তা এএফপি’কে বলেন, চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যৌথ যুদ্ধবিমান নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো আর সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে না।

তিনি বলেন, ‘তারা বাস্তবতাকে স্বীকার করেছেন।’

তবে ওই কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের অন্যান্য অংশ চালু থাকবে। তিনি বলেন, ‘এফসিএএসের মূল অংশকে একটি ইউরোপীয় ব্যবস্থা হিসেবে এগিয়ে নেওয়া হবে।’ 

তার ভাষায়, এটি হবে এমন একটি ‘স্নায়ুতন্ত্র’, যা যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং অন্যান্য উপাদানকে একীভূত কাঠামোর মধ্যে যুক্ত করবে।

তিনি আরও জানান, আসন্ন এক বৈঠকে ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কয়েকটি বাস্তবসম্মত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি পরিকল্পনা তৈরি করবে।

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর বিচ্ছিন্ন সামরিক সক্ষমতাকে আরও সমন্বিত করার দাবি জোরালো হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতেই এফসিএএস বাতিলের খবর এলো।

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়েও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এফসিএএস প্রকল্পটি টিকিয়ে রাখতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালানো হয়। মার্চ মাসে একজন ফরাসি ও একজন জার্মান মধ্যস্থতাকারীকে প্রকল্পটি রক্ষার জন্য প্রস্তাব তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো সমাধান বের করতে পারেননি।

এদিকে দাসো অ্যাভিয়েশনের প্রধান বারবার বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি চাইলে একাই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে পারে এবং তিনি যৌথ ব্যবস্থাপনার পক্ষে নন।

প্রকল্পের সমাপ্তি এমন সময় এলো, যখন মের্ৎস ও মাখোঁ দুজনেই প্রকাশ্যে এর সফলতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

চলতি বছরের শুরুতে মের্ৎস বলেছিলেন, ‘যৌথ ইউরোপীয় প্রকল্প, বিশেষ করে জার্মান-ফরাসি প্রকল্প বাস্তবায়নে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যাব।’

অন্যদিকে এপ্রিল মাসে মের্ৎসের সঙ্গে বৈঠকের পর মাখোঁ প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেছে- এমন দাবি নাকচ করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। ইউরোপের এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্য, অধিক স্বাধীনতা এবং বৃহত্তর সার্বভৌমত্ব প্রয়োজন।’