শিরোনাম

ঢাকা, ১৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : ইউক্রেনের প্রায় ৬০০ ড্রোনের ব্যাপক হামলায় রাশিয়ার মস্কো অঞ্চলে তিন জন ও বেলগোরোদ অঞ্চলে একজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মস্কো।
রোববার রুশ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাতভর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ৫৫৬টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ভোর হওয়ার পর আরও ৩০টি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করা হয়। চলমান সংঘাতের মধ্যে এটিকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের অন্যতম বড় ড্রোন হামলা বলা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, ১৪টি রুশ অঞ্চল, ইউক্রেন থেকে দখল করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপ এবং কৃষ্ণ ও আজভ সাগরের আকাশে এসব ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
এই হামলায় রাজধানী মস্কোর আশপাশের অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানানো হয়।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে বলেন, ‘একটি ড্রোন ব্যক্তিগত বাড়িতে আঘাত হানলে এক নারী নিহত হন। এই হামলায় আরও একজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন।’
তিনি আরও বলেন, ভোররাতের এই হামলায় আরও দুই পুরুষ নিহত হয়েছেন।
ভোরোবিয়ভ বলেন, রাত ৩টা থেকে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী রাজধানী অঞ্চলে বড় ধরণের ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে।
তিনি জানান, এ হামলায় চার জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন অবকাঠামো স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
এর একদিন আগে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আরও পাল্টা হামলার ঘোষণা দেন।
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার হামলায় কিয়েভে ২৪ জন নিহত ও আরও প্রায় ৫০ জন আহত হওয়ার পর তিনি এ ঘোষণা দেন।
মস্কো শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানীতে রাতভর ৮০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এতে ১২ জন আহত হয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে বলেন, ‘ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে যেসব স্থানে আঘাত লেগেছে, সেখানে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, একটি হামলায় তেল ও গ্যাস শোধনাগারের কাছে নির্মাণকাজে থাকা শ্রমিকরা আহত হয়েছেন।
সোবিয়ানিন বলেন, ‘এতে শোধনাগারটির উৎপাদন ব্যাহত হয়নি। তবে এই হামলায় তিনটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মস্কো শহর তুলনামূলক কম হামলার শিকার হলেও রাজধানী অঞ্চল প্রায়ই ড্রোন হামলার মুখে পড়ে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউক্রেন সীমান্তঘেঁষা বেলগোরোদ অঞ্চলের শেবেকিনো জেলায় ড্রোন হামলায় একটি লরিতে থাকা এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার ছোড়া মোট ২৮৭টি ড্রোনের মধ্যে ২৭৯টিকে তারা প্রতিহত করেছে।
-‘সম্পূর্ণ ন্যায্য’-
পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল নিয়ে মস্কোর সর্বোচ্চ দাবিগুলো মেনে নিতে অনিচ্ছুক কিয়েভ। ফলে সংঘাত অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চেষ্টা চালালেও ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করার পর আলোচনা কার্যত থমকে যায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বিজয়ের বার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত তিন দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হওয়ার পর মস্কো ও কিয়েভ আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করে।
উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
চার বছরের বেশি সময় ধরে রুশ বাহিনীর দৈনিক বোমাবর্ষণের জবাবে ইউক্রেন নিয়মিত রাশিয়ার ভেতরে হামলা চালিয়ে আসছে।
ইউক্রেনের রাজধানীতে সাম্প্রতিক রুশ হামলার পর জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্পূর্ণ ন্যায্য।
তার ভাষায়, এর মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনায় মস্কোর অর্থায়নের সক্ষমতায় আঘাত হানা হচ্ছে।
কিয়েভের মিত্র দেশগুলো অভিযোগ করেছে, সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে উপহাস করছে রাশিয়া।