বাসস
  ১৫ মে ২০২৬, ১৩:৫৬

নিখোঁজ অভিবাসীদের খুঁজে বের করতে মেক্সিকো সরকারের প্রতি স্বজনদের আহ্বান

ঢাকা, ১৫ মে, ২০২৬ (বাসস): মেক্সিকোতে নিখোঁজ হওয়া অভিবাসীদের সন্ধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার রাজধানী মেক্সিকো সিটির জোকালো চত্বরে তারা সমবেত হয়ে সরকারের প্রতি এ দাবি জানান।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতাকে কেন্দ্র করে মেক্সিকো বর্তমানে ভয়াবহ নিখোঁজ সংকটের মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে দেশটির ভেতর দিয়ে যাতায়াতকারী বহু অভিবাসীও নিখোঁজ হয়েছেন।

হন্ডুরাস, কিউবা, কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা এ সমাবেশের আয়োজন করেন। তারা মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী চিয়াপাস অঙ্গরাজ্য এবং মেক্সিকো সিটিতে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে গিয়েছিলেন।

গত এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে মেক্সিকোর নিখোঁজ সংকটকে এতটাই ভয়াবহ বলা হয় যে, একে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া সোমবার আন্তঃআমেরিকান মানবাধিকার আদালতের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিখোঁজ মানুষের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।

মেক্সিকো সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন।

তবে এই পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন কিউবার নাগরিক অ্যালিসিয়া সান্তোস তোরেস। তার ছেলে হোর্হে আলেহান্দ্রো লোসাদা সান্তোস ২০২৪ সালে চিয়াপাসে নিখোঁজ হন।

সমাবেশে তিনি বলেন, ‘সরকারের দেওয়া এই হিসাব নিয়ে আমার গভীর সন্দেহ রয়েছে। আমি এটি মোটেও বিশ্বাস করি না।’

তিনি আরও বলেন, যদি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম সত্যিই লাতিন আমেরিকার মায়েদের কথায় গুরুত্ব দিতেন, তাহলে তিনি শুনতেন এবং বুঝতেন যে এখানে উপস্থিত আমাদের সবার সন্তান মেক্সিকোতে নিখোঁজ হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ সীমান্ত অনেক অভিবাসীর জন্য মৃত্যুর করিডরে পরিণত হয়েছে।’

পরিবারগুলোর অভিযোগ, তাদের অনেক স্বজন ২০২৪ সালের ২১ ডিসেম্বর চিয়াপাস থেকে উত্তরমুখী একটি নৌযাত্রায় নিখোঁজ হন। ওই নৌকায় ৪০ জনের বেশি অভিবাসী ছিলেন।

এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ মেলেনি।

তাদের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দারা অপরাধী চক্রের ভয়ে পুলিশের কাছে তথ্য দিতে সাহস পান না।

নৌকা থেকে নিখোঁজ হওয়া নিজের ভাই রিকার্দো হার্নান্দেজ বারাহোনাকে খুঁজতে আসা হন্ডুরাসের নাগরিক অস্কার এনরিক হার্নান্দেজ এএফপি’কে বলেন, ‘আমরা বুঝেছি মানুষ ভীত। প্রতিশোধের আশঙ্কায় কেউ কিছু বলতে চায় না।’

তিনি অভিযোগ করেন, প্রসিকিউটরদের নিষ্ক্রিয়তা তারা বুঝতে পারছেন না। তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, তদন্তেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

অস্কার বলেন, ‘সবচেয়ে কষ্ট হবে খালি হাতে নিজের দেশে ফিরে যাওয়া।’