শিরোনাম

ঢাকা, ১৫ মে, ২০২৬ (বাসস) : ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ২০২৫ সালে সংঘটিত প্রাণঘাতী গাড়িবোমা হামলার ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী তদন্ত সংস্থা।
ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)’র বরাতে নয়াদিল্লি থেকে এএফপি জানায়, অভিযুক্তরা আল-কায়েদা অনুপ্রাণিত সংগঠন ‘আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ’ (এজিইউএইচ)-এর সঙ্গে জড়িত ছিল।
২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর পুরান দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে একটি ব্যস্ত মেট্রো স্টেশনের সামনে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১১ জন নিহত হন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন গাড়িটির কথিত চালক চিকিৎসক উমের উন নবী। বিস্ফোরণে নিহত ওই ব্যক্তির দগ্ধ মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। বাকি নয়জন বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন।
তবে নবী মারা যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চারটি রাজ্য ও ভারত-শাসিত কাশ্মীরজুড়ে কয়েক মাস তদন্ত চালানোর পর বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে ৭ হাজার ৫০০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেয় এনআইএ।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘মৃত ডা. উমের উন নবীসহ ১০ অভিযুক্তই আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস)-এর শাখা সংগঠন আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দের সঙ্গে যুক্ত ছিল।’
হাসপাতাল সূত্রে নিহতের সংখ্যা ১২ বলা হলেও সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১১।
এনআইএ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা অবৈধভাবে নিষিদ্ধ অস্ত্র সংগ্রহের সঙ্গেও জড়িত ছিল। এসব অস্ত্রের মধ্যে ছিল অ্যাসল্ট রাইফেল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘তারা নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলার উদ্দেশ্যে রকেট ও ড্রোনে স্থাপিত আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিল।’
অভিযুক্তদের কয়েকজন ‘উগ্রপন্থায় প্রভাবিত চিকিৎসক’ বলে জানিয়েছে এনআইএ। তাদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন চিকিৎসক এবং কয়েকজন কাশ্মীরের বাসিন্দা।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার পর থেকেই কাশ্মীর অঞ্চলটি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত। উভয় দেশই পুরো অঞ্চলটির দাবি করে আসছে।
ভারত-শাসিত কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়েছে, যদিও তা এখন অনেকটাই দমন করা হয়েছে। এই সংঘাতে হাজারো সেনা, বিদ্রোহী ও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
ভারত ও পাকিস্তর পরস্পরকে জাতিসংঘ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠনসহ বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীকে সমর্থনের অভিযোগ করে থাকে। তবে উভয় দেশই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে।
তবে ভারত সরাসরি পাকিস্তানের সমর্থনপুষ্ট বলে যেসব গোষ্ঠীকে অভিযুক্ত করে তাদের মধ্যে আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ নেই।