শিরোনাম

ঢাকা, ১৩ মে, ২০২৬ (বাসস) ইরানের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র বুধবার বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ দেশটির জন্য ‘উল্লেখযোগ্য’ আর্থিক আয় সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত প্রণালীটি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করে রেখেছে।
স্বাভাবিক সময়ে এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ, পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে।
এই জলপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং তেহরানকে বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা দিয়েছে। অন্যদিকে ৮ এপ্রিল থেকে নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নিজস্ব নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে।
তেহরান থেকে এএফপি জানায়, আইএসএনএ সংবাদ সংস্থার বরাতে সামরিক মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীর ওপর আমাদের তদারকি দেশের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক আয় সৃষ্টি করবে— যা সম্ভাব্যভাবে আমাদের তেল আয় দ্বিগুণ পর্যন্ত করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে আমাদের প্রভাব বাড়াবে।’
তিনি জানান, প্রণালীটির পশ্চিমাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ-ইউনিট এবং পূর্বাংশ তদারকি করছে ইরানের নৌবাহিনী।
হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার অন্যতম প্রধান অচলাবস্থার বিষয় হয়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত এসব আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বুধবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, তার কমিটি এই নৌপথ ব্যবস্থাপনার একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে তিনি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ অবস্থানকে শক্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।’
গত মাসে ইরানের পার্লামেন্টের উপ-স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাঈ বলেন, প্রণালিটি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোর ওপর আরোপিত টোল থেকে তেহরান প্রথম আয় পেয়েছে।