বাসস
  ১৩ মে ২০২৬, ১৯:৩৪

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার : পেন্টাগন

ঢাকা, ১৩ মে, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে দেশটির চলমান যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এদিকে যুদ্ধ এবং এর কারণে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির ওপর প্রভাব নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাড়তি সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

ওয়ািিশংটন থেকে এএফপি জানায়, ক্যাপিটল হিলে বাজেট শুনানির সময় প্রকাশিত এ হিসাব দুই সপ্তাহ আগে দেওয়া বিভাগের আগের অনুমানের তুলনায় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বেশি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এবং পেন্টাগনের অর্থবিষয়ক প্রধান জুলস হার্স্ট তৃতীয় প্রশাসনের ২০২৭ সালের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় যুদ্ধ ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন।

হার্স্ট বলেন, ‘সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ব্যয় ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার।’ তিনি ২৯ এপ্রিল হেগসেথের দেওয়া হিসাবের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘তবে জয়েন্ট স্টাফ টিম ও কম্পট্রোলার টিম নিয়মিত এ ব্যয় পর্যালোচনা করছে। এখন আমরা মনে করছি, এটি প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।’ তিনি সরঞ্জাম মেরামত ও প্রতিস্থাপন ব্যয় এবং বৃহত্তর সামরিক পরিচালন ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেন।

ডেমোক্র্যাট দল ও যুদ্ধবিরোধী সমালোচকেরা পেন্টাগনের এ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ইরানের হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতিসহ প্রকৃত ব্যয় আরও অনেক বেশি হতে পারে।

কংগ্রেস কবে পূর্ণাঙ্গ ব্যয়ের হিসাব পাবে- এ প্রশ্নে হেগসেথ বলেন, প্রশাসন পেন্টাগনের বাজেটের বাইরে ‘যতটুকু প্রয়োজন মনে করবে’ ততটুকু অর্থ চেয়ে আবেদন করবে। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো সময়সীমা দেননি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ক্রমেই নড়বড়ে হয়ে উঠছে। ট্রাম্প সোমবার সতর্ক করে বলেন, তেহরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে।

ডেমোক্র্যাটরা শুনানিতে যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশাসনকে তীব্র সমালোচনা করেন।

হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট রোজা ডিলরো বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে—আমরা কী অর্জন করেছি এবং কী মূল্যে?’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা সামরিক অভিযান ‘সমাপ্ত’ হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানানোর পর এই প্রথম ক্যাপিটল হিলে হাজির হন হেগসেথ।

ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। তারা তার যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করতে একাধিক উদ্যোগ নিলেও রিপাবলিকানরা তা আটকে দেয়।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি সপ্তাহান্তে সতর্ক করে বলেন, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরসহ উন্নত অস্ত্রের মজুত ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং তা পুনরায় পূরণ করতে কয়েক বছর লাগতে পারে।

তবে হেগসেথ এসব উদ্বেগকে ‘বোকামিপূর্ণ ও অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরঞ্জিত’ বলে উড়িয়ে দেন।

হাউস শুনানির পর হেগসেথ ও কেইন সিনেটের একটি প্যানেলের সামনেও দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। উভয় শুনানিতেই যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সিনেটে ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে বলেন, প্রশাসনের ব্যয়ের হিসাব ‘সন্দেহজনকভাবে কম’ মনে হচ্ছে। কারণ এতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর অন্তত ২২৮টি স্থাপনা বা সরঞ্জামে হামলা চালিয়েছে।

‘প্রজেক্ট অন গভর্নমেন্ট ওভারসাইট’-এর জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা নীতি বিশ্লেষক ভার্জিনিয়া বার্গার বলেন, প্রশাসন যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় ‘দশ বিলিয়ন ডলার’ পর্যন্ত কম দেখিয়ে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ‘করদাতাদের এই যুদ্ধ আসলে কত ব্যয় করছে তা জানার একমাত্র উপায় হলো পেন্টাগন যদি কংগ্রেসকে বিস্তারিত ব্যয়ের হিসাব দেয়।’

‘সংখ্যাগুলো না দেখা পর্যন্ত আমাদের সন্দেহ থেকেই যাবে যে, পেন্টাগন হয়তো গাণিতিক কৌশল ও বাছাই করা হিসাব ব্যবহার করে সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ কম দেখাচ্ছে।’

হেগসেথ ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট হিসাব দিতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি আবারও দাবি করেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করত, তাহলে তার মূল্য আরও ভয়াবহ হতো।

ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, গত বছরের মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে। যদিও গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকির মুখে ফেলতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ইরানের আরও প্রায় এক দশক সময় লাগত।