বাসস
  ১৩ মে ২০২৬, ১৫:১০

রুবিও’র নামের চীনা বানান পরিবর্তন করায় নিষেধাজ্ঞা জটিলতার সমাধান

ঢাকা, ১৩ মে, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র নামের চীনা বানান পরিবর্তন করায় দেশটিতে তার প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জটিলতার সমাধান হয়েছে। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন তিনি। 

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। 

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর থাকাকালে রুবিও চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নেন। এর জেরে চীন তার বিরুদ্ধে দুই দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। 

এটি এমন এক কৌশল, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায়শই তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে থাকে।

চীন মঙ্গলবার জানিয়েছে, বর্তমানে ৫৪ বছর বয়সী ও প্রথমবারের মতো চীন সফরে আসা রুবিওকে চীনে প্রবেশে বাধা দেওয়া হবে না। 

প্রায় এক দশকে ট্রাম্পই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি এশিয়ার এই শক্তিধর দেশটিতে সফর করছেন।

চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ বলেন, মার্কিন সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চীন বিষয়ে রুবিওর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে লক্ষ্য করে এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আরোপ করা হয়েছিল।

ট্রাম্প রুবিওকে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর, চীন ইতোমধ্যেই একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক আগে চীনা সরকার ও সরকারি গণমাধ্যম তার নামের প্রথম অক্ষরটিকে ‘লু’ শব্দের জন্য ব্যবহৃত একটি ভিন্ন চীনা অক্ষর দিয়ে তার নামের উচ্চারণ লেখা শুরু করে।

দুই কূটনীতিকের মতে, এই পরিবর্তনটি চীনের জন্য দ্রুত রুবিও’র নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর একটি উপায় ছিল। কারণ পুরনো নামের বানানে রুবিওর প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, রুবিও ট্রাম্পের সঙ্গে সফরে যাচ্ছেন।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে রুবিওর উপস্থিতি দ্রুত অন্য একটি কারণে অনলাইনে দ্রুত নজর কেড়েছে। হোয়াইট হাউস তার একটি ছবি প্রকাশ করেছে। ওই ছবিতে তাকে নাইকির একটি ট্র্যাক স্যুট পরে আরাম করতে দেখা যায়। এই ধরনের ট্র্যাক স্যুটই ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো পরেছিলেন। যাকে গত জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী তাকে আটক করে।

কিউবান-আমেরিকান রুবিও কমিউনিজমের  বা সাম্যবাদ-এর ঘোর বিরোধী। তিনি কংগ্রেসের সেই আইনের মূল প্রণেতা ছিলেন, যা প্রধানত মুসলিম উইঘুর সংখ্যালঘুদের ওপর জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগে চীনের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। 

যদিও বেইজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

হংকংয়ে বেইজিংয়ের কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন রুবিও।