শিরোনাম

ঢাকা, ১১ মে, ২০২৬ (বাসস) : স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধির পর ইরানের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদিকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। তার সমর্থকেরা জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য তাকে ইতোমধ্যে তেহরানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
উত্তর ইরানের জানজানে কারাদণ্ড ভোগরত অবস্থায় ১০ দিন হাসপাতালে থাকার পর মোহাম্মদিকে ‘মোটা অঙ্কের জামিনে সাজা স্থগিতের সুবিধা দেওয়া হয়েছে’ বলে তার ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। তবে জামিনের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
প্যারিস থেকে এএফপি জানায়, বিবৃতিতে বলা হয়, তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তেহরানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যেখানে ‘তার নিজস্ব চিকিৎসক দল’ চিকিৎসা দেবে।
গত সপ্তাহে তার সমর্থকেরা সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানে মানবাধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া মোহাম্মদি কারাগারেই মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছেন। জানজানের কারাগারে আটক অবস্থায় তিনি দুটি সন্দেহজনক হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।
প্যারিসে অবস্থানরত তার স্বামী তাকি রাহমানি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নার্গিস মোহাম্মদির জীবন এখন সংকটাপন্ন অবস্থায় ঝুলছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শুধু সাময়িক স্থানান্তর যথেষ্ট নয়। যে পরিস্থিতি তার স্বাস্থ্যের এই অবনতি ঘটিয়েছে, সেখানে তাকে আর কখনো ফেরত পাঠানো উচিত হবে না।’
মোহাম্মদির ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তার বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘তার সাজা মেয়াদের অবশিষ্ট ১৮ বছর কাটানোর জন্য যেন তাকে আর কখনো কারাগারে ফিরতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
তার ইরানি আইনজীবী মোস্তফা নিলি এক্সে দেওয়া পোস্টে নিশ্চিত করেছেন, ‘চিকিৎসার জন্য সাজা স্থগিতের নির্দেশ’ পাওয়ার পর রোববার সকালে তাকে তেহরানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
৫৪ বছর বয়সী মোহাম্মদি গত দুই দশকের বেশিরভাগ সময়ই মানবাধিকার আন্দোলনের কারণে কারাগারে যাওয়া-আসার মধ্যে ছিলেন। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে এক আইনজীবীর জানাজায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সমালোচনা করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে থেকেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত মোহাম্মদি কারাগারে গত ২৪ মার্চ ও ১ মে দুটি সন্দেহজনক হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন।
সর্বশেষ ঘটনার পর তাকে চিকিৎসার জন্য জানজানের হাসপাতালে নেওয়া হলেও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছিল।
তার আইনজীবী প্যারিসভিত্তিক শিরিন আরদাকানি গত সপ্তাহে বলেন, কারাগারে মোহাম্মদির ওজন ২০ কেজি কমে গেছে, কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে এবং সর্বশেষ গ্রেপ্তারের আগের অবস্থার সঙ্গে এখন তাকে ‘চেনার উপায় নেই’।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাবেও তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। তার কারাগারের আশপাশে অন্তত তিনটি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে।
২০২২-২৩ সালের বিক্ষোভে জোরালো সমর্থন জানিয়েছিলেন মোহাম্মদি। ইরানি কুর্দি নারী মাহসা আমিনি-র হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় ওই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া বড় আন্দোলনের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নারীদের বাধ্যতামূলক হিজাব ও মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে প্রচারণার পাশাপাশি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতনের পূর্বাভাসও তিনি নিয়মিত দিয়ে আসছিলেন।
প্যারিসে বসবাস ও অধ্যয়নরত মোহাম্মদির যমজ কিশোর সন্তান আলি ও কিয়ানা রাহমানি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের মাকে দেখেনি। তিনি কারাগারে থাকাকালে তার পক্ষে তারাই নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেছিল।