বাসস
  ১০ মে ২০২৬, ২২:১২

মার্কিন শান্তি প্রস্তাবের জবাব ইরানের

ঢাকা, ১০ মে, ২০২৬ (বাসস): যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান। একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। নতুন কোনো মার্কিন হামলা হলে পাল্টা জবাব দিতে পিছপা হবে না বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে তেহরান থেকে এএফপি জানিয়েছে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো তেহরানের জবাবে ‘সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের’ ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে লেবাননে, যেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। একই সঙ্গে ‘নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের’ বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবারের মধ্যে ইরানের জবাব প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হওয়ার মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধবিরতি আরও চাপের মুখে পড়ে। রোববারের ড্রোন হামলাগুলোর একটিতে কাতারের একটি বন্দরের দিকে যাওয়া একটি মালবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতও তাদের ভূখণ্ডে আরেকটি হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। অভিযোগ সত্য হলে চলতি মাসে উপসাগরীয় কোনো দেশে এটি হবে দ্বিতীয় হামলার ঘটনা।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেকশিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা কখনো শত্রুর কাছে মাথানত করব না। আলোচনা বা সংলাপের কথা বলা মানেই আত্মসমর্পণ বা পিছু হটা নয়।’

এদিকে ইরানের সামরিক প্রধান আলী আবদুল্লাহি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, ‘শত্রুর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে’ তিনি নতুন নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনা পেয়েছেন।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবুধাবি থেকে দেশটির জলসীমায় প্রবেশ করা একটি মালবাহী জাহাজ মেসাইদ বন্দরের কাছে ড্রোন হামলার শিকার হয়।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, জাহাজটি একটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তারা জানায়, ‘সামান্য আগুন লাগলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং পরিবেশগত ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।’

তাৎক্ষণিকভাবে কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, ‘কাতার উপকূলের কাছে হামলার শিকার জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী এবং এটি আমেরিকার মালিকানাধীন।’

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ‘আজ থেকেই আমাদের সংযমের সময় শেষ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের জাহাজে যেকোনো হামলার জবাবে মার্কিন জাহাজ ও ঘাঁটির বিরুদ্ধে শক্ত ও সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া জানাবে ইরান।’

এর আগের দিন ইরানের বিপ্লবী গার্ড মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থে হামলার হুমকি দেয়। শুক্রবার ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানি পতাকাবাহী দুটি জাহাজে গুলি চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়ার পর এই হুমকি দেওয়া হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে ও হামলার চেষ্টা হয়েছে এবং সরাসরি ইরানের নাম উল্লেখ করেছে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, ‘ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা দুটি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।’

ইরানের প্রতিবেশী কুয়েতও ড্রোন হামলার চেষ্টার কথা জানিয়েছে।

কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, ‘আজ ভোরে কুয়েতের আকাশসীমায় কয়েকটি শত্রু ড্রোন শনাক্ত করা হয় এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেগুলোর মোকাবিলা করা হয়েছে।’

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পার্ক ইল সাংবাদিকদের বলেন, একটি দক্ষিণ কোরীয় মালবাহী জাহাজ সোমবার হামলার শিকার হয় এবং আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দুবাই বন্দরে পৌঁছায়।

তিনি বলেন, ‘৪ মে এইচএমএম নামু জাহাজটির পেছনের অংশে প্রায় এক মিনিট ব্যবধানে দুটি অজ্ঞাত উড়োজাহাজ আঘাত হানে, এতে আগুন ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়।’

ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল সীমিত করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল, গ্যাস ও সার পরিবহনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ইরানগামী বা ইরান থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ থামিয়ে দিচ্ছে বা পথ পরিবর্তনে বাধ্য করছে।

হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের ব্যবস্থাও চালু করেছে ইরান। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলপথ ও বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশের রুট হিসেবে ব্যবহৃত এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে চলে যাওয়া ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।