শিরোনাম

ঢাকা, ১০ মে ২০২৬ (বাসস) : ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করা দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের ক্ষেত্রে ‘ভোগান্তির’ মুখে পড়তে হবে বলে রোববার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী।
চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন সরকার ইরানের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য তেহরানকে অর্থ পরিশোধ না করতে জাহাজগুলোকে সতর্ক করে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইন জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে, যার খসড়া এএফপি দেখেছে। এতে ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালী বড় ধরনের উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তেহরান থেকে এএফপি জানায়, ইরানের সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএকে বলেন, ‘যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে, তারা অবশ্যই প্রণালী অতিক্রমে সমস্যার মুখে পড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালীতে নতুন আইনগত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছি। এখন থেকে কোনো জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করতে চাইলে আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।’
তার ভাষ্য, এই ব্যবস্থা ‘ইতোমধ্যে কার্যকর’ হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ‘অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সুবিধা’ পাওয়া যাবে।
শনিবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একই ধরনের সতর্কবার্তা দেন।
তিনি লেখেন, ‘বাহরাইনের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্রসহ যেসব সরকার যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত প্রস্তাবের পাশে দাঁড়াবে, তাদের সতর্ক করছি- এর ভয়াবহ পরিণতি হবে। হরমুজ প্রণালী একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ; এটিকে নিজেদের জন্য চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে ফেলবেন না।’
ইরান এখন পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক জাহাজকে এই নৌপথ ব্যবহার করতে দিচ্ছে। শান্তিকালে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
গত মাসে ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাঈ বলেছিলেন, প্রণালীতে আরোপিত টোল থেকে তেহরান প্রথম আয় পেয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ভেটো ক্ষমতাধর রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের প্রস্তাবিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবটি আটকে দিতে প্রস্তুত রয়েছে।