বাসস
  ০৫ মে ২০২৬, ১৩:১৫

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত ও ৬টি নৌযান ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ঢাকা, ৫ মে,  ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

একই সঙ্গে তেহরানের ছয়টি ছোট নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এক শীর্ষ মার্কিন অ্যাডমিরাল।

সোমবার এই সংঘর্ষ ঘটে, যখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করছে মার্কিন বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার এ উদ্যোগের নাম দেন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম।’

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সাংবাদিকদের বলেন, অ্যাপাচি ও সিহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ‘বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি করা ইরানের ছয়টি ছোট নৌযানে’ হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী তাদের ও বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কার্যকরভাবে প্রতিহত করেছে।

কুপার বলেন, কিছু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ লক্ষ্য করে ছোড়া হয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিজেদের রক্ষা করেছি এবং আমাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী সব বাণিজ্যিক জাহাজকেও রক্ষা করেছি।’

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের সাতটি নৌযানে হামলার কথা উল্লেখ করেন। 

তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জাহাজ ছাড়া ‘এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’ 

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার বরাতে জানায়, ‘ইরানের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার মার্কিন দাবি মিথ্যা।’

-প্রতিরক্ষামূলক ‘ছাতা’-

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এরপরই তেল ও গ্যাস রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় তেহরান। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে।

সোমবার এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, প্রণালী দিয়ে অগ্রসরমান মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের কাছে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট ও যুদ্ধ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরানের নৌবাহিনী। 

এটিকে তারা ‘সতর্কতামূলক গুলি’ বলে উল্লেখ করে।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর অংশ হিসেবে দুটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার প্রণালী পেরিয়ে উপসাগরে প্রবেশ করেছে। একই সময়ে দুটি মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ বিপরীতমুখে যাত্রা করে নিরাপদে এগিয়ে যাচ্ছে।

কুপার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জাহাজগুলোর সঙ্গে থেকে এগিয়ে দিচ্ছে না। বরং জাহাজ, হেলিকপ্টার, বিমান, আকাশপথে আগাম সতর্কতা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধসহ একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘শুধু জাহাজ এগিয়ে নেওয়ার চেয়ে এটি অনেক বিস্তৃত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা।’

তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে ‘উন্নত প্রযুক্তি’ ব্যবহার করে প্রণালীতে একটি নিরাপদ পথ তৈরি করা হয়েছে। 

এরপর তার ওপর এই ‘নিরাপত্তা ছাতা’ দেওয়া হয়েছে।