বাসস
  ০৩ মে ২০২৬, ১৪:৫৭

স্পিরিট এয়ালাইনস বন্ধ, যাত্রী ও কর্মীদের সহায়তায় এগিয়ে এলো যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থাগুলো

ঢাকা, ৩ মে, ২০২৬ (বাসস) : স্পিরিট এয়ারলাইন্স হঠাৎ করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায়, আটকে পড়া যাত্রী ও কর্মীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমান সংস্থা। ঋণদাতা ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের আলোচনা ভেঙে পড়ার পর রাতারাতি এই সিদ্ধান্ত নেয় স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইনটি।

উজ্জ্বল হলুদ রঙের বিমানের জন্য পরিচিত স্পিরিট জ্বালানি মূল্যের চাপ সহ্য করতে না পেরে ভোরে এক ঘোষণায় তারা জানায়, ‘তাৎক্ষণিক ও কার্যকরভাবে’ তাদের বৈশ্বিক কার্যক্রম বন্ধ করা হচ্ছে। 

এয়ারলাইনটির সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে ও গ্রাহকসেবা বন্ধ রয়েছে।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

এর পরপরই আমেরিকান, ডেল্টা, ইউনাইটেড ও জেটব্লুসহ অন্যান্য এয়ারলাইন দ্রুত স্পিরিটের যাত্রীদের নিতে উদ্যোগী হয়। বাতিল টিকিটধারীদের জন্য তারা ‘রেসকিউ ভাড়া’ চালুর প্রস্তাব দেয়।

কিছু এয়ারলাইন জানায়, যেখানে স্পিরিটের চলাচল বেশি ছিল, সেখানে তারা ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াবে বা বড় আকারের বিমান চলাচল করবে।

এছাড়া আটকে পড়া স্পিরিট কর্মীদের সহায়তা ও নিয়োগের উদ্যোগও নেয় তারা।

এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘তেলের দামের সাম্প্রতিক বড় বৃদ্ধি এবং অন্যান্য চাপ স্পিরিটের আর্থিক অবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’

তারা আরও জানায়, ‘অতিরিক্ত কোনো অর্থায়ন না থাকায়, কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না।’

যাত্রীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

নথি অনুযায়ী, গত বছরের শেষে স্পিরিটে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কর্মী ছিল। চুক্তি না হওয়ায় তাদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলো তীব্র সমালোচনা করেছে।

এয়ার লাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ‘এই সিদ্ধান্তের কষ্ট বোর্ডরুমে নয়, পাইলট, কেবিন ক্রু, মেকানিক, ডিসপ্যাচার, গ্রাউন্ড কর্মী এবং তাদের পরিবার ও নির্ভরশীল কমিউনিটিগুলোর ওপর পড়বে।’

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি স্পিরিটকে বাঁচাতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন।

নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘স্পিরিটকে টিকিয়ে রাখার উপায় খুঁজতে প্রেসিডেন্ট শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন।’

ফ্লোরিডার ৬০ বছর বয়সী বাসিন্দা র‌্যামন বলেন, এই সপ্তাহে তিনি পরিবার দেখতে হন্ডুরাস যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

তিনি ও তার ছেলে কেভিন সাম্প্রতিক দিনে স্পিরিটের সমস্যার খবর দেখে এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে বিকল্প ফ্লাইটের ভাড়া বেশি হওয়ায় তারা অর্থ ফেরতের প্রস্তাব নেননি। তখনও এয়ারলাইনটি বন্ধ হয়ে যাবে— এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল না।

স্পিরিট এয়ারলাইন্স ১৯৯২ সালে যাত্রা শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমূল্যের প্রথম দিকের বিমান সংস্থাগুলোর একটি হয়ে ওঠে এটি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে ২০২৪ সালের নভেম্বর ও ২০২৫ সালের আগস্টে দেউলিয়া ঘোষণার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি টিকে থাকার লড়াই করছিল।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে স্পিরিট জানায়, ঋণ পুনর্গঠনের জন্য তারা নীতিগতভাবে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে এবং গ্রীষ্মের শুরুতে দেউলিয়া অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার আশা করছে।

এর কয়েক দিন পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জেট জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।

গত সপ্তাহে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোয়াইট হাউসের আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা কমতে থাকে। 
ঋণদাতারাও কোম্পানিতে সরকারের অংশীদারিত্ব নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল বলে জানা যায়।