বাসস
  ০১ মে ২০২৬, ১৪:২৩

ইরান যুদ্ধ : ফুরিয়ে আসছে ট্রাম্পের আইনি সময়সীমা

ঢাকা, ১ মে, ২০২৬ (বাসস) : ইরান যুদ্ধের পক্ষে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন পেতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে সময় আছে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত। তবে এই আইনি সময়সীমা শেষ হতে চললেও ট্রাম্প তার সামরিক পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসবেন বলে মনে হচ্ছে না।

গত মার্চের শুরুতে ইরানে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প কংগ্রেসকে অবহিত করার পর ‘৬০ দিনের’ একটি সময় গণনা শুরু হয়। মার্কিন আইন অনুযায়ী, আইনপ্রণেতারা যুদ্ধের অনুমোদন না দিলে এই সময়ের পর সরকারকে সামরিক তৎপরতা গুটিয়ে নিতে হয়।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো অনুমোদন না আসায় হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে এক ধরনের সাংবিধানিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ট্রাম্প ইতোমধ্যে নড়বড়ে আইনি অবস্থানে আছেন এবং সময়সীমা পার হলে তিনি স্পষ্টতই আইন লঙ্ঘন করবেন।

সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা চাক শুমার রিপাবলিকানদের প্রতি যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘৬০ দিনের এই সময়সীমা পার হওয়ার পর তিনি যে ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা আইন লঙ্ঘন করছেন, সে বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ থাকবে না।’

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাদের দাবি, গত মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির ফলে এই সময় গণনার ঘড়িটি থেমে গেছে। 

প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপি’কে বলেন, গত ৭ এপ্রিলের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো গোলাগুলি হয়নি, তাই তাদের মতে শত্রুতা শেষ হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, যুদ্ধবিরতির সময় ‘৬০ দিনের সময়সীমা থেমে যায় বা স্থগিত থাকে’। তবে ডেমোক্র্যাটরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, আইনের এমন ব্যাখ্যার কোনো ভিত্তি নেই।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর পাস হওয়া এই আইনের ৫০ বছর পর আবারও প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে কংগ্রেসের কর্তৃত্বের এক বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং এর ফলে অভ্যন্তরীণভাবে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সিনেটে ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেছে। ডেমোক্র্যাটরা বেশ কয়েকবার এই যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়।

এদিকে, অধিকাংশ রিপাবলিকান সদস্য প্রেসিডেন্টকে সমর্থন দিলেও সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় দলটির ভেতরে অস্বস্তি বাড়ছে। স্পষ্ট কোনো কৌশল বা অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ চলতে থাকলে কিছু রিপাবলিকান তাদের সমর্থন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

উটাহর প্রতিনিধি জন কার্টিস সতর্ক করে বলেন, ৬০ দিন পর সামরিক কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার আইনটি খুব স্পষ্ট। কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নন।

চাপ বাড়তে থাকলেও যুদ্ধ বন্ধের এই প্রচেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ কোনো প্রস্তাব সিনেটে পাস হলেও রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত হাউসে তার অনুমোদন পেতে হবে। এছাড়া ট্রাম্প সেখানে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম শিফ বলেন, ‘দুই মাসের যুদ্ধ, ১৩ জন সেনার প্রাণহানি এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অপচয়ের পর এখন আমাদের স্বীকার করার সময় এসেছে যে, এর জন্য আমরা ইতোমধ্যে অনেক বড় মূল্য চুকিয়েছি।’