শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয়ের ৮১ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের প্যারেডে সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করবে না রাশিয়া।
মঙ্গলবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতি বছরই এই আয়োজন জাঁকজমকপূর্ণ সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এবারের প্যারেড আগামী ৯ মে মস্কোর রেড স্কয়ারে হওয়ার কথা।
মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে জানায়, ‘বর্তমান সামরিক পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন সামরিক স্কুল, ক্যাডেট কো ও সামরিক সরঞ্জামের কলাম এবারের প্যারেডে অংশ নেবে না।’
তবে সশস্ত্র বাহিনীর সব শাখার প্রতিনিধিরা প্যারেডে অংশ নেবেন। ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনরত সেনাদের ভিডিওচিত্রও প্রদর্শন করা হবে।
প্যারেডে বিমান প্রদর্শনীরও পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, ‘বিমান প্রদর্শনীতে রাশিয়ার অ্যারোবেটিক দল রেড স্কয়ারের আকাশে উড়বে। প্যারেডের শেষে সু-২৫ আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমানের পাইলটরা রাশিয়ার পতাকার রঙে মস্কোর আকাশ রাঙিয়ে তুলবেন।’
গত বছর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংসহ বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা মস্কোয় উপস্থিত ছিলেন।
সেবার হাজারো সেনার কুচকাওয়াজে অংশ নেয়, যাদের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া সেনারাও ছিলেন।
১৯৪৫ সালে নাৎসিদের পরাজয় স্মরণে সেই প্যারেডে নতুন ট্যাংক ও ড্রোনসহ নানা অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়।
সাবেক কেজিবি কর্মকর্তা পুতিন বারবার নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বিজয়ের উদাহরণ টেনে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তার সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন।
তিনি কিয়েভ সরকারকে ‘নব্য-নাৎসি’ আখ্যা দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরানোর কথা বলেছেন।
কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলো এ বক্তব্যকে প্রোপাগান্ডা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তাদের মতে, এটি একটি অবৈধ দখল, যাতে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে এবং রাশিয়া ইউক্রেনের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কোর শুরু করা এই যুদ্ধ বিপুল অর্থনৈতিক সম্পদ ধ্বংস করেছে ও লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে।