বাসস
  ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:১৪

ইরান উত্তেজনার মাঝেও সম্পর্ক জোরালো করার বার্তা চার্লস-ট্রাম্পের

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন।

তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যুতে ব্রিটেনের রাজা তার সঙ্গে একমত।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

জাঁকজমকপূর্ণ ভোজসভায় চার্লস কংগ্রেসে দেওয়া আগের বক্তব্যের সুরই বজায় রাখেন। 

এ সময় ব্রিটেনের রাজা লন্ডন ও ওয়াশিংটনকে একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানান। 

তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও তেহরানকে ঘিরে উত্তেজনার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করেননি।

চার দিনের সফরে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো এই স্পর্শকাতর ইস্যুতে প্রকাশ্যে কথা বললেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সামরিকভাবে ওই প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেছি। চার্লস আমার সঙ্গে একমত যে আমরা কখনোই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেব না।’

ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী  কেয়ার স্টারমারের সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প। 

তবে চার্লস এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন— এমন কোনো ইঙ্গিত নেই।

তারপরও উভয় নেতা ‘বিশেষ সম্পর্কের’ দৃঢ়তা তুলে ধরেন। এ সময় তারা সাময়িকভাবে হলেও আটলান্টিক পাড়ের টানাপোড়েনের বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে যান।

চার্লস তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি একটি অপরিহার্য জোটকে নবায়ন করতে, যা দীর্ঘদিন ধরে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার ভিত্তি।’

তিনি ন্যাটোর মতো আন্তর্জাতিক জোটের গুরুত্বও তুলে ধরেন, যাকে ট্রাম্প একাধিকবার অবজ্ঞা করেছেন। 

একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান।

চার্লস বলেন, ‘একসঙ্গে আমরা ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারি।’

-তারকা অতিথিদের উপস্থিতি-
নৈশভোজের মেনুতে ছিল গার্ডেন ভেজিটেবল ভেলুতে, স্প্রিং হার্বড রাভিওলি ও ডোভার সোল মুনিয়ের। 
শেষে পরিবেশন করা হয় হোয়াইট হাউসের মধু ও ভ্যানিলা বিন ক্রেম্যু।

অতিথিদের মধ্যে ছিলেন— অ্যাপলের প্রধান টিম কুক, অ্যামাজনের জেফ বেজোস, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং ও দুইবারের মাস্টার্সজয়ী গলফার ররি ম্যাকইলরয়।

এ সময় চার্লস ও ট্রাম্প হালকা হালকা মেজাজে কথা বলেন। ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন সমর্থন না থাকলে, মিত্ররা জার্মান ভাষায় কথা বলত’— দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে নিয়ে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের জবাবে চার্লস বলেন, ‘আমরা না থাকলে হয়তো আপনারা ফরাসি ভাষায় কথা বলতেন।’ 

২৫০ বছর আগে মার্কিন স্বাধীনতার পূর্বে ঔপনিবেশিক শক্তি ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা উল্লেখ করেন চার্লস।

ট্রাম্প চার্লসের কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণের প্রশংসা করে বলেন, ‘তিনি ডেমোক্র্যাটদের দাঁড়াতে বাধ্য করেছেন— আমি কখনো তা পারিনি।’

চার্লস কংগ্রেসে উষ্ণ অভ্যর্থনা পান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে পশ্চিমা মিত্রদের পাশে থাকার আহ্বান জানান। পরিবেশসহ এমন কিছু বিষয়ও তুলে ধরেন, যেগুলো ট্রাম্প প্রায়ই উপেক্ষা করেন।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রসঙ্গ টেনে চার্লস বলেন, ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির জন্য ‘অটল সংকল্প’ প্রয়োজন। দেশটি ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার একটি পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে।

-‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু’-
১৯৯১ সালে তার মা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের পর কংগ্রেসে ভাষণ দেওয়া দ্বিতীয় ব্রিটিশ সম্রাট হিসেবে চার্লস গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ব্রিটিশ ম্যাগনা কার্টা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে ১৬০টির বেশি মামলায় উল্লেখ হয়েছে। এতে ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যের নীতি তুলে ধরা হয়— যা বিরোধীরা ট্রাম্প খর্ব করছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

এর আগে ট্রাম্প চার্লস ও রানি ক্যামিলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২১ বার তোপধ্বনি ও বিমান প্রদর্শনী করে স্বাগত জানান।

ট্রাম্প বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে ব্রিটিশদের মতো ঘনিষ্ঠ বন্ধু আর কেউ নেই।’

ইরানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধ থাকলেও, সফরজুড়ে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল।

ট্রাম্প তার স্কটিশ বংশোদ্ভূত মায়ের প্রসঙ্গ তুলে মজা করেন। ব্রিটিশ আবহাওয়া নিয়েও কৌতুক করেন।

একটি মিডিয়া গালায় ট্রাম্পের ওপর কথিত হামলার চেষ্টার পর, এই সফরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

চার্লস বলেন, ‘এ ধরণের সহিংসতা কখনো সফল হবে না।’

বুধবার রাজপরিবার নিউইয়র্কে যাবেন। ৯/১১ স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করবেন। 

বৃহস্পতিবার তারা বারমুডার উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন।