বাসস
  ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:০৫

মার্কিন পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে ট্রাম্পের ছবি

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পাসপোর্টে শিগগিরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি যুক্ত করা হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা মঙ্গলবার এ তথ্য  জানিয়েছেন।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ধারায় এটি হবে ট্রাম্পের আরেকটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বিশ্বের কোথাও, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে ক্ষমতাসীন নেতার ছবি পাসপোর্টে ব্যবহারের নজির খুবই কম। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ট্রাম্পই হবেন প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যার ছবি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভ্রমণ নথিতে থাকবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে সীমিত সংস্করণের এই পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে। 

ঐতিহাসিকভাবে দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিকমাধ্যমে পাসপোর্টের নমুনা প্রকাশ করেছে। সেখানে ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাইয়ের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ওপর গম্ভীর চেহারার ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে। ছবির নিচে সোনালি রঙে রয়েছে তার স্বাক্ষর। 

আরেকটি সীমিত সংস্করণের পাসপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার স্থপতিদের ঐতিহাসিক একটি চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে। 

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বিশেষ নকশার সীমিত সংখ্যক পাসপোর্ট প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্পের ছবিযুক্ত পাসপোর্ট শুধু ওয়াশিংটনে সীমিত সময়ের জন্য পাওয়া যাবে। সরাসরি আবেদনকারীরা অতিরিক্ত ফি না দিয়েই সেগুলো সংগ্রহ পারবেন। 

তবে আবেদনকারীদের কেউ ট্রাম্পের ছবিযুক্ত এই সংস্করণটি নিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবেন কি না, তা এখনই স্পষ্ট নয়। অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক সাধারণত স্থানীয় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন, যেখানে এই বিশেষ সংস্করণটি পাওয়া যাবে না।

-সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া-

বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা এ উদ্যোগ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সমালোচনা করেছেন।

হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এক্সে লিখেছেন, মার্কো রুবিওর উচিত ট্রাম্পের অহংকার চরিতার্থে করদাতাদের অর্থ অপচয় করে ইরানে নিজের ইচ্ছায় বেছে নেওয়া যুদ্ধ বন্ধে অধিক মনোযোগ দেওয়া। 

বিশ্বের যেসব দেশে পাসপোর্টে শিল্পকর্ম ব্যবহার করা হয়, সেখানে সাধারণত ঐতিহাসিক ঘটনা বা প্রাকৃতিক দৃশ্য তুলে ধরা হয়।

এমনকি উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের পাসপোর্টেও কিম জং উনের ছবি নেই; বরং সেখানে রয়েছে পবিত্র পেকতু পর্বতের ছবি। 

বর্তমান মার্কিন পাসপোর্টে চাঁদে অবতরণসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি রয়েছে।

গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিজের নাম ও ছবি যুক্ত করার উদ্যোগ নেন ট্রাম্প। 

রাজধানীর বেশ কয়েকটি সরকারি ভবনেও প্রেসিডেন্টের ব্যানার ঝুলানো হয়েছে। এমনকি কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস এবং বিলুপ্ত ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিসেও যুক্ত হয়েছে তার নাম।

এছাড়া গত মাসে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, শিগগিরই ডলার নোটেও ট্রাম্পের স্বাক্ষর যুক্ত করা হবে। এটি আরেকটি নজিরবিহীন ঘটনা হতে যাচ্ছে।

ব্রিটেন ও অন্যান্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশের মুদ্রায় রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতিকৃতি রয়েছে। তবে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হলেও সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নন। 

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে এক রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে  রাজা চার্লস ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

জরিপ অনুযায়ী, মাত্র অর্ধেক আমেরিকানের কাছে বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে; যা অনেক পশ্চিমা দেশের তুলনায় কম। এছাড়া ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেওয়া অঙ্গরাজ্যগুলোর বাসিন্দারা আন্তর্জাতিক ভ্রমণে কম আগ্রহী।