বাসস
  ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২০:০০

দারফুরে শিশুদের পরিস্থিতি ‘ভাঙনের পর্যায়ে’: ইউনিসেফ

ঢাকা, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : সুদানের যুদ্ধবিধ্বস্ত দারফুর অঞ্চলে লক্ষাধিক শিশু চরম সহিংসতা, অনাহার ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে মঙ্গলবার সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, এই সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ অত্যন্ত কম।

জেনেভা থেকে জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের বরাতে এএফপি জানায়, দারফুরে দুই দশক আগে যে ভয়াবহতা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল, এখন আবারও সেই ইতিহাস আরও ভয়াবহ রূপে ফিরে এসেছে।

ইউনিসেফের সুদানের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, ‘আবারও লক্ষাধিক শিশু চরম সহিংসতা, ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে।’

তিনি জেনেভায় সাংবাদিকদের ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘কিন্তু এবার সংকট আরও গভীর, অথচ আন্তর্জাতিক মনোযোগ তাদের দুর্ভোগের তুলনায় অনেক কম।’

ইয়েট ২০০৫ সালে দারফুর নিয়ে ইউনিসেফের প্রথম ‘চাইল্ড অ্যালার্ট’ প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি ২০ বছর আগে দারফুরে ছিলাম। তখন হলিউডের তারকারাও সেখানে যেতে প্রতিযোগিতা করত।’

‘কিন্তু এখন দারফুর নিয়ে কোনো মনোযোগই নেই, সুদান নিয়েও নেই,’ যোগ করেন তিনি।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এর মধ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

ইউনিসেফ জানায়, সুদানে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন, যার অর্ধেকেরও বেশি শিশু।

দারফুরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ উল্লেখ করে ইয়েট বলেন, সেখানে ৫০ লাখেরও বেশি শিশু চরম বঞ্চনার মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘শিশুরা হত্যা ও অঙ্গহানির শিকার হচ্ছে, ঘরবাড়ি হারাচ্ছে এবং চরম ক্ষুধা, রোগ ও মানসিক আঘাতে ভুগছে।’

উত্তর দারফুরের এল-ফাশার শহরের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। শহরটি ১৮ মাস অবরুদ্ধ থাকার পর গত বছরের অক্টোবরে আরএসএফ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে যায়।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে এল-ফাশারে শিশুদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৫০০টির বেশি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।

শিশুরা যৌন সহিংসতা, অপহরণ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীতে জোরপূর্বক নিয়োগের শিকার হচ্ছে বলেও ইউনিসেফ জানিয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সুদানের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের বিরুদ্ধে ৫ হাজার ৭০০টিরও বেশি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৪ হাজার ৩০০টি শারীরিক ক্ষতির ঘটনা রয়েছে।

এ বছর সুদানের জন্য ইউনিসেফের ৯৬ কোটি ৩০ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা আবেদন এখন পর্যন্ত মাত্র ১৬ শতাংশ পূরণ হয়েছে বলে সংস্থাটি জানায়।