বাসস
  ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৫৪

লেবাননের ভূখণ্ড দখলের ইচ্ছা নেই ইসরাইলের: গিদিওন সার

ঢাকা, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : দক্ষিণ লেবাননের যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের নতুন করে সরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও ইসরাইল মঙ্গলবার বলেছে, লেবাননের কোনো ভূখণ্ড দখলের ইচ্ছা তাদের নেই।

জেরুজালেম  থেকে এএফপি জানায়, ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘লেবাননে ইসরাইলের কোনো ভূখণ্ডগত আকাঙ্ক্ষা নেই। সেখানে আমাদের উপস্থিতির একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আমাদের নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া।’

ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার মধ্যেই তিনি বলেন, ‘মাথার দিকে বন্দুক তাক করা অবস্থায় কোনো দেশই এভাবে বসবাস করতে রাজি হবে না।’

গত ১৭ এপ্রিল হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই ইসরাইল সীমান্তঘেঁষা প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীর একটি এলাকা ‘ইয়েলো লাইন’ হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে ওই এলাকায় ইসরাইলি সেনারা অভিযান চালাচ্ছে।

সার বলেন, ‘যখন হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোসহ অন্যান্য সংগঠনকে নিরস্ত্র করা হবে, তখন এসব এলাকায় ইসরাইলের উপস্থিতির আর প্রয়োজন হবে না।’

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায় একে অপরের ওপর চাপিয়েছে।

মঙ্গলবার ইসরাইলি বাহিনী এক ডজনের বেশি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের জন্য নতুন সতর্কতা জারি করে। এতে তাদের দ্রুত উত্তর দিকে সাইদা জেলার দিকে সরে যেতে বলা হয়।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদরাই এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘আপনাদের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে বাড়িঘর ছেড়ে সাইদা জেলার দিকে চলে যেতে হবে।’

এর কিছুক্ষণ পর লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ইসরাইল বিমান হামলা চালিয়েছে। সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া এলাকাগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত একটি ইসরাইলি ধ্বংসযজ্ঞ অভিযান চালানো হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া বেশিরভাগ এলাকা ‘ইয়েলো লাইন’-এর বাইরে অথবা সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।

মঙ্গলবারের আরও দুটি ঘটনায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা সেনা মোতায়েন থাকা এলাকায় ‘সন্দেহজনক একটি আকাশযান’ প্রতিহত করেছে।

এ ছাড়া সোমবার বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলায় এক সেনা গুরুতর এবং আরেক সেনা সামান্য আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়। ইসরাইল এ ঘটনাকে হিজবুল্লাহর নতুন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সোমবার বলেন, হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন এখনো বড় ধরনের হুমকি এবং এ কারণে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

গত ২ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করলে লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।