শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : গ্রিসের উপকূলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অভিবাসীদের ঢল নামায় গ্রিস ও লিবিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোমবার ত্রিপোলিতে অভিবাসন নিয়ে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।
লিবিয়ার সরকারি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইউরোপীয় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জেস গেরাপেট্রিটিস লিবিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাহের আল-বাউরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ‘দায়ভার ভাগাভাগি’ ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে একটি ‘বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণে সম্মত হয়েছেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে বিপজ্জনক যাত্রার মাধ্যমে অভিবাসীরা প্রায়ই লিবিয়া থেকে গ্রিসের দ্বীপ ক্রিটে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।
মার্চের শেষে ক্রিট উপকূল থেকে উদ্ধার হওয়া জীবিত অভিবাসীরা বলেন, মার্চের শেষে লিবিয়া থেকে যাত্রা করার পর, ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকা অবস্থায় ২২ জন মারা যান এবং তাদের লাশগুলোকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।
এরা লিবিয়া থেকে যাত্রা করেছিল।
চলতি মাসের শুরুতে গ্রিস কর্তৃপক্ষ জানায়, কয়েক দিনের ব্যবধানে তারা ৩০০ জনেরও বেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে।
দুই মন্ত্রী ভূমধ্যসাগরে তাদের নিজ নিজ একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে গ্রিস ও লিবিয়ার জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধ নিয়েও আলোচনা করেছেন।
লিবিয়ার মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে ‘গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি’ পুনর্ব্যক্ত করেছে।
লিবিয়া ২০১৯ সালে তুরস্কের সঙ্গে সামুদ্রিক সীমা নির্ধারণ চুক্তি স্বাক্ষর করলে গ্রিস ক্ষুব্ধ হয়।
কারণ আথেন্সের মতে, এটি গ্রিক দ্বীপগুলোর অধিকার উপেক্ষা করে করা হয়েছে।
২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর, বছরের পর বছর ধরে চলা অস্থিরতার কারণে উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি এখনও বিভাজন ও অস্থিতিশীলতায় জর্জরিত।
দেশটি পশ্চিমে জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকার ও সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার-সমর্থিত পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে বিভক্ত রয়েছে।
গেরাপেট্রিটিস গত মাসে বেনগাজিতে হাফতারের সঙ্গে অভিবাসন নিয়েও আলোচনা করেছেন।