শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক চাপে পড়েছে রায়ানএয়ার, ট্রান্সএভিয়া, ভলোটিয়া এবং কম সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন অন্যান্য বিমান সংস্থা। তারা ইতোমধ্যেই ফ্লাইট কমাতে শুরু করেছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের বড় অংশ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জেট ফুয়েলের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। তৈরি হয়েছে ঘাটতির আশঙ্কা। এতে অনেক এয়ারলাইন্স ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হতে পারে। তবে, সরবরাহ ঘাটতির জন্য অপেক্ষা না করেই পদক্ষেপ নিচ্ছে এয়ারলাইন্সগুলো।
প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
ট্রাভেল থেরাপি টিভির উপস্থাপিকা ক্যারেন শ্যালার গত সপ্তাহের শুরুতে ভ্রমণ সতর্কতা জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে বলেন, এয়ারলাইন্সগুলো এখনই হাজার হাজার ফ্লাইট কমাচ্ছে। আগেই বুকিং দিন।
বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্ববাজারের এক-তৃতীয়াংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে অপেক্ষাকৃত কম সুবিধা সম্পন্ন এয়ারলাইন্সগুলো। ব্যবসায়িক মডেলের কারণে তারাই প্রথম চাপ অনুভব করছে। কম ভাড়ার কারণে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির চাপ সামাল দেওয়ার সক্ষমতা তাদের কম।
কিছু ফ্লাইট বাতিল স্বাভাবিক সময়সূচি সমন্বয়ের অংশ হিসেবেও হতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু রুটে চাহিদা প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে এয়ারলাইন্সগুলো এমন সিদ্ধান্ত নেয়।
বিনিয়োগ ব্যাংক গুডবডি-এর আর্থিক বিশ্লেষক ডাডলি শ্যানলি বলেন, বছরের এই সময়ে সূচি সমন্বয় অস্বাভাবিক নয়।
তবে তিনি সতর্ক করেন, জেট ফুয়েলের দাম যদি এই পর্যায়ে থাকে, তাহলে স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন্সগুলোকে আরো ফ্লাইট কমাতে হবে।
যুদ্ধের আগে এয়ারলাইন্সগুলো সীমিত লাভজনক বা এমনকি অলাভজনক রুটও চালু রাখতে পারত। কিন্তু জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়বে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের ব্যস্ত মৌসুমেই।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি কমিশনার ড্যান জর্গেনসেন গত সপ্তাহে স্কাই নিউজ-কে বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক মানুষের ছুটি এতে প্রভাবিত হবে। ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বা টিকিটের দাম অনেক বেড়ে যেতে পারে।