শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গতকাল রোববার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে হিজবুল্লাহ নয়, বরং ইসরাইলই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণার প্রথম দিন থেকেই শত্রুপক্ষের ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের একটি বৈধ জবাব হিসেবে তারা দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরাইলে ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইসরাইলের অব্যাহত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও সর্বোপরি লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারিত্ব ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে, তার জবাব দেওয়া হবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘আমাদের ভূমি ও জনগণকে রক্ষা করতে আমরা প্রস্তুত ও সক্রিয় রয়েছি।’
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে বলেন, ‘হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ড কার্যত যুদ্ধবিরতিকে ভেঙে দিচ্ছে’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও লেবাননের সঙ্গে সমন্বয় করেই ইসরাইল কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
গত ১৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, ইসরাইল ‘পরিকল্পিত বা আসন্ন হামলার’ জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে।
সম্প্রতি এই যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছে।
তবে এর মধ্যেও ইসরাইল লেবাননে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের সেনারা সীমান্তবর্তী একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে, যাকে তারা ‘ইয়েলো লাইন’ বলে উল্লেখ করেছে।
হিজবুল্লাহ বলেছে যে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে একটি প্রকৃত যুদ্ধবিরতি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে ইসরাইল তার আগ্রাসন ও হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে।
হিজবুল্লাহ লেবাননের কর্তৃপক্ষেরও কঠোর সমালোচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে লেবানন ও ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতদের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে তারা বলেছে, এতে সরকার নিজেদের ‘বিপজ্জনক অবস্থায়’ ফেলেছে।
উল্লেখ্য, দেশ দুটি’র মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
হিজবুল্লাহ অভিযোগ করে বলেছে, ‘লেবাননের সরকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ইসরাইলের হামলার মুখে নীরব ভূমিকা পালন করছে।’
বিবৃতিতে তারা আরও জানায়, আমরা ব্যর্থ কূটনীতির ওপর নির্ভর করব না এবং এমন কোনো কর্তৃপক্ষের ওপর ভরসা করব না, যারা দেশকে রক্ষা করতে পারেনি।