শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ইসরাইলের সঙ্গে কয়েক দশক পর প্রথম সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি নিয়ে শনিবার বৈঠক করেছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী।
বৈরুত থেওেক এএফপি জানায়, জোসেফ আউনের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, তিনি ও প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন এবং শান্তি প্রক্রিয়া সুসংহত করার বিষয়টি আলোচনা করেন। একই সঙ্গে ইসরাইলে সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার ক্ষেত্রে লেবাননের প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করা হয়।
এই বৈঠকটি এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন প্রেসিডেন্ট আউন একদিন আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, লেবানন এখন ইসরায়েলের সঙ্গে ‘স্থায়ী চুক্তি’র দিকে এগোচ্ছে এবং সরাসরি আলোচনা কোনো ‘ছাড়’ নয়, যা হিজবুল্লাহর সমালোচনার জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) থেকে কার্যকর হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির পর এই অগ্রগতি আসে। এই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য হলো ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের অবসান ঘটানো।
সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২,৩০০ জনের বেশি নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এই আলোচনার বিরোধিতা করছে। সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতা মাহমুদ কামাতি প্রেসিডেন্ট আউনকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি ‘লেবাননের প্রতি সম্মান দেখান না’ এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা থেকে কিছুই অর্জন হবে না।
এদিকে যুদ্ধবিরতির মধ্যে দক্ষিণ লেবানন ও কৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষদের ঘরে ফেরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে অনেকেই এখনও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
একজন বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা সামাহ হাজউল বলেন, ‘রাতে কিছু হয়ে গেলে সন্তানদের নিয়ে পালানোর মতো নিরাপত্তা আমরা অনুভব করছি না।’
সরকার জানিয়েছে, ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্গঠন, সড়ক খুলে দেওয়া এবং নিরাপদ এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানোর কাজ চলছে, যাতে মানুষ ধীরে ধীরে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে।