বাসস
  ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৭

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানে তুরস্কে আন্তর্জাতিক ফোরামের আয়োজন

ঢাকা, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে তুরস্ক শুক্রবার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামের আয়োজন করেছে, যেখানে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নিয়েছেন। 

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান বলেন, শান্তির সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পথ হলো সংলাপ ও কূটনীতি।

আন্তালিয়া থেকে এএফপি জানায়, তিন দিনব্যাপী ‘আন্তালিয়া কূটনীতি ফোরাম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এরদোয়ান বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির ফলে যে সুযোগের জানালা খুলেছে, তা স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মতপার্থক্য যত গভীরই হোক, আমরা যেন আবার শব্দের জায়গায় অস্ত্রকে বসতে না দিই। শান্তির সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পথ হলো গঠনমূলক সংলাপ ও কূটনীতি।’

ফোরামের ফাঁকে শুক্রবার তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। তেহরান হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক ছবিতে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কূটনৈতিক পরিবেশে বৈঠক করতে দেখা যায়।

পাকিস্তান নিজেকে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। গত সপ্তাহে দেশটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরল সরাসরি বৈঠকের আয়োজন করেছিল, যদিও তা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠক ‘খুব সম্ভবত’ ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে। আগের বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

‘সতর্ক থাকতে হবে’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, যিনি আঞ্চলিক সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার কাতারের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, তিনি আন্তালিয়া ফোরামের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেন এবং এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র বৃহস্পতিবার জানায়, চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে তুরস্ক সর্বাত্মক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

সূত্রটি আরও জানায়, ‘এই যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিকভাবেও ক্রমশ অনুভূত হচ্ছে। আমরা আশা করি, সব পক্ষ গঠনমূলক আলোচনায় যুক্ত হয়ে দ্রুত সংঘাতের অবসান ঘটাবে।’

ইসরাইলের কড়া সমালোচক তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তারা বলছে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

এরদোয়ান সরাসরি ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতি নিয়ে মন্তব্য না করলেও আলোচনাকে ভ-ুল করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, ‘আলোচনা প্রক্রিয়া নস্যাৎ করার ইসরাইলের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের প্রস্তুত ও সতর্ক থাকতে হবে।’

হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই জলপথে প্রবেশাধিকার সীমিত করা উচিত নয়। তার এই মন্তব্যের কিছুক্ষণ পরই ইরান প্রণালীটি উন্মুক্ত ঘোষণা করে।

তিনি বলেন, ‘হরমুজের এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান। উপসাগরীয় দেশগুলোর উন্মুক্ত সমুদ্রে প্রবেশাধিকার সীমিত করা উচিত নয়।’ তিনি আন্তর্জাতিক নিয়মের ভিত্তিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এই সম্মেলনে ১৫০টিরও বেশি দেশ অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে ২০টির বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান রয়েছেন।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।

এর আগে শুক্রবার আল-শারা বলেন, ইসরাইল যদি সাম্প্রতিক দখল করা সিরীয় অঞ্চল থেকে সরে আসে, তবে গোলান মালভূমি নিয়ে ‘দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা’ বিবেচনা করা যেতে পারে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে ইসরাইল জাতিসংঘ তত্ত্বাবধানে থাকা বাফার জোনে সেনা মোতায়েন করেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইল ও সিরিয়ার বাহিনীর মধ্যে বিভাজন রেখা হিসেবে কাজ করছিল।